Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মনোনয়ন জমার ঠিক আগেই বড় চাল শুভেন্দুর! আজ সকালেই ভবানীপুরে যা করলেন বিরোধী দলনেতা…

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
মহাযুদ্ধের মহালগ্ন সমাগত। ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে আজ এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই আজ (২রা এপ্রিল) সকালেই ভবানীপুরের অলি-গলিতে তাঁর ঝটিকা সফর এবং আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ড ঘিরে গোটা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কোনও রাজনৈতিক আস্ফালন বা উগ্রতা নয়, বরং ভক্তি ও জনসংযোগের এক অভূতপূর্ব মিশেলে আজ নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি।সকাল থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও তাৎপর্যপূর্ণ। আলিপুরের দিকে রওনা হওয়ার ঠিক আগে তিনি পৌঁছে যান ভবানীপুরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে। সেখানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো দিয়ে জয়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন তিনি। পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর গলায় উত্তরীয়—শুভেন্দুর এই শান্ত অথচ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি আজ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। মন্দিরের পুরোহিতদের কাছ থেকে তিলক নিয়ে তিনি যখন বাইরে বেরোলেন, তখন তাঁর চোখে-মুখে ছিল জয়ের দৃঢ় সংকল্প। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। এরপরই তিনি পা রাখেন স্থানীয় গুরুদ্বারে। মাথায় গেরুয়া কাপড় বেঁধে পরম শ্রদ্ধায় গুরু গ্রন্থ সাহেবের সামনে মাথা নত করেন তিনি। ভবানীপুর এলাকাটি শিখ সম্প্রদায়ের একটি বড় কেন্দ্র, আর সেই আবেগ ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে তাঁদের মাঝে গিয়ে দাঁড়ানো শুভেন্দুর এক সুগভীর রাজনৈতিক ও মানবিক চাল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গুরুদ্বারের সেবায়েতদের সঙ্গে তাঁর নম্র ব্যবহার এবং শিখ ভাইদের সঙ্গে সদ্ভাব বিনিময় প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তিনি কেবল নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠীর নয়, বরং ভবানীপুরের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধি হতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়ন পেশের ঠিক আগে এই ধরণের আধ্যাত্মিক পরিক্রমা কেবল নিয়ম রক্ষা নয়, বরং এক বিশাল মাস্টারস্ট্রোক। ভবানীপুরের মিশ্র সংস্কৃতির ভোটারদের হৃদস্পন্দনকে অনুভব করে তাঁদের ঘরের মানুষ হয়ে ওঠার এই প্রচেষ্টা বিরোধী শিবিরে রীতিমতো অস্বস্তি তৈরি করেছে। লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির থেকে গুরুদ্বার—প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সংস্কৃতির মেলবন্ধনই তাঁর মূল শক্তি। এরপর তিনি ভবানীপুরের স্বামীনারায়ণ মন্দিরেও যান, যেখানে আরতি ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে এক বিশাল জনতাকে কাছে টেনে নেন। তবে আজকের দিনটির গুরুত্ব আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ শুভেন্দুর সমর্থনে মেগা রোড-শোতে যোগ দিতে চলেছেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলে অমিত শাহের মত ব্যক্তিত্বের উপস্থিত থাকা এটাই প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব কতটা অপরিসীম। হাজরা মোড় থেকে যখন এই বর্ণাঢ্য মিছিল শুরু হবে, তখন শুভেন্দুর পাশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান বিরোধীদের কাছে এক শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হবে।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই আজ সকালের এই আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কার্যক্রম শুভেন্দুকে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। একদিকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা এবং সর্বোপরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় সমর্থন—সব মিলিয়ে আজকের এই দিনটি শুভেন্দুর রাজনৈতিক কেরিয়ারে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।

এখন দেখার, আজ সকালের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ এবং অমিত শাহের হাত ধরে শুরু হওয়া এই জয়যাত্রা ইভিএম-এর লড়াইয়ে শুভেন্দুকে কতটা বড় ব্যবধানে জয়ী করে। তবে মনোনয়ন জমার আগেই যে তিনি ভবানীপুরের মন জয় করার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।

Exit mobile version