Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মোথাবাড়ি কাণ্ডে বড় মোড়: সিবিআই নয়, তদন্ত করবে এনআইএ; নজরদারিতে সুপ্রিম কোর্ট!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
মালদহের মোথাবাড়িতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তের মোড় ঘুরল নাটকীয়ভাবে। প্রথমে সিবিআই (CBI) তদন্তের কথা শোনা গেলেও, শেষ পর্যন্ত এই স্পর্শকাতর মামলার ভার দেওয়া হলো ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ (NIA)-র হাতে। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সবথেকে বড় বিষয় হলো, গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াটি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারিতে পরিচালিত হবে।

গত বুধবার মালদহের কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকায় ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) চলাকালীন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা ব্লক অফিসে চড়াও হয়। সেখানে দায়িত্বরত সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে (যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন) একটি ঘরে প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্দি করে রাখা হয়।অভিযোগ, তাঁদের কোনও খাবার বা জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। মধ্যরাতে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করার সময় বিক্ষোভকারীরা আধিকারিকদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এবং তাঁদের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের সিইও (CEO) অফিস থেকে সিবিআই তদন্তের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশন পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র বা নাশকতামূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এনআইএ-ই উপযুক্ত সংস্থা। বিশেষ করে বিস্ফোরক আইনের (Explosive Substances Act) প্রয়োগ এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর এই ধরণের সংগঠিত হামলা মোকাবিলায় এনআইএ-র বিশেষ দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণগুলি ছিল অত্যন্ত কড়া। আদালত মনে করছে, এটি কোনও সাধারণ বিক্ষোভ নয়, বরং বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কেন ছিল না এবং গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-কে তীব্র ভর্ৎসনা করে আদালত। তদন্তে যাতে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব না পড়ে, তাই সুপ্রিম কোর্ট নিজেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া তদারকি করবে বলে জানিয়েছে। এনআইএ-র একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মালদহে পৌঁছেছে এবং স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ শুরু করেছে। আগামী ৬ই এপ্রিলের মধ্যে এনআইএ-কে তাদের প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মাওলানা শাহজাহান আলিও রয়েছেন, যাকে এই ঘটনার অন্যতম উস্কানিদাতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের মুখে মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের এই নির্দেশ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলো। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তদন্তে ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Exit mobile version