প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মালদার মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা এবং বিচারকদের হেনস্থার ঘটনায় আজ এক ঐতিহাসিক মোড় নিল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত এই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে অত্যন্ত কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজ্য পুলিশের হাত থেকে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?এদিনের শুনানিতে বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মালদার মোথাবাড়িতে যা ঘটেছে তা কেবল একটি সাধারণ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং এটি দেশের বিচারবিভাগের ওপর একটি ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’। আদালত মনে করছে, বিচারকদের ভয় দেখিয়ে বা হেনস্থা করে বিচারব্যবস্থার মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে এর পেছনে।
শুনানি চলাকালীন রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাইব্যুনাল চত্বরে কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না এবং পুলিশ কেন ঘটনার সময় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি, তা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের এই গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সুপ্রিম কোর্ট আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার তদন্তভার ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র (NIA) হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এনআইএ ইতিপূর্বেই আদালতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল, যার গুরুত্ব বিচার করে আদালত মনে করছে, এই ঘটনার শিকড় অনেক গভীরে। রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আজ সন্ধ্যার মধ্যেই মামলার সমস্ত নথি, কেস ডায়েরি এবং এ পর্যন্ত ধৃত ব্যক্তিদের এনআইএ-র হেফাজতে দিয়ে দিতে হবে।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের কাজ চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি, আদালত চত্বরে জমায়েতের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিচারবিভাগের মর্যাদা রক্ষায় শীর্ষ আদালতের এই ‘অ্যাকশন’ রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
