Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র ২৫ পাতার ‘গোপন’ রিপোর্ট! এবার কি ফাঁস হবে আসল খলনায়কের নাম?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও এবং হেনস্থার ঘটনায় এবার এক বিস্ফোরক মোড় এল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) আদালতের কাছে একটি ২৫ পাতার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই রিপোর্টে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যের ইঙ্গিত মিলেছে, যা দেখে বিচারপতিরা রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালত মনে করছে, মোথাবাড়ির এই হামলা কোনো আকস্মিক উত্তেজনা নয়, বরং এর নেপথ্যে কাজ করছে কোনো ‘গভীর ষড়যন্ত্র’।

রিপোর্টে ঠিক কী আছে?এনআইএ-র জমা দেওয়া ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ ব্যাহত করতে এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ভয় দেখাতে এটি একটি “পরিকল্পিত আক্রমণ”। রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ওই দিন সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তোলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট প্রভাবশালী মহলের হাত থাকতে পারে। বিচারব্যবস্থার ওপর এই আঘাতকে “সাংবিধানিক বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করে সুপ্রিম কোর্ট অবিলম্বে মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনার শিকড় কত গভীরে এবং এর পেছনের ‘আসল খলনায়ক’ কারা, তা খুঁজে বের করা জরুরি। সেই কারণেই রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা না রেখে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই ধৃত ২৪ জন এবং মামলার সমস্ত নথি এনআইএ-র হেফাজতে দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এই নির্দেশের পর এখন থেকে মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তের রাশ পুরোপুরি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে। এনআইএ খতিয়ে দেখবে, সেই দিন কারা নেপথ্যে থেকে পুরো ঘটনার ছক কষেছিল এবং কাদের প্ররোচনায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। এনআইএ-র হাতে এই মামলার ফাইল চলে যাওয়ায় এখন জেলা থেকে রাজ্য—প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আগামী শুনানিতে এনআইএ-কে আরও বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তদন্তের মোড় যেদিকে ঘুরছে, তাতে আগামী দিনে আরও বেশ কিছু বড় নাম এনআইএ-র স্ক্যানারে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থানে ঘুম উড়েছে ষড়যন্ত্রকারীদের।

Exit mobile version