Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মোথাবাড়ির আঁচে ফুটছে বঙ্গ রাজনীতি! দিলীপের ‘গায়ের জোর’ বনাম ফিরহাদের ‘জনতার অ্যাকশন’— কে এগিয়ে?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বঙ্গে ভোটের উত্তাপ এখন সপ্তমে। নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়েছেন হেভিওয়েটরা। কিন্তু ভোটযুদ্ধের এই আবহেও মালদহের মোথাবাড়ি ইস্যু যেন বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে ওলটপালট করে দিচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সেই ক্ষোভের বারুদে এবার ঘি ঢাললেন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এবং কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের তৃণমূল কাণ্ডারি ফিরহাদ হাকিম।

খড়গপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই মালদহের ‘মোথাবাড়ি-কাণ্ড’ নিয়ে সরাসরি শাসক শিবিরের দিকে তোপ দাগলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর চিরপরিচিত আক্রমণাত্মক ঢঙেই তিনি দাবি করেন, মোথাবাড়িতে যা ঘটছে তা আদতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ। দিলীপবাবুর সাফ কথা, “পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বুঝেই এখন গায়ের জোরে ভোট করানোর ছক কষা হচ্ছে।” হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে হাপিস করে দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার এই ‘ব্লু-প্রিন্ট’ রুখতে তিনি কমিশনের কড়া দাওয়াই ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ভয় দেখিয়ে বা পেশিশক্তি খাটিয়ে আর যাই হোক, মানুষের মন জেতা যায় না।

দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণকে পাল্টা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। প্রচারের ফাঁকেই তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপি যদি মনে করে শুধু সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেই কাজ হাসিল হবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। ফিরহাদবাবুর কড়া বার্তা, “যদি কোনো গলদ থাকে, তবে নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশন দিয়ে অ্যাকশন নিন। কিন্তু অহেতুক প্ররোচনা দেবেন না।” একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিজেপি যদি এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করে তবে “সাধারণ মানুষই এবার দিলীপ ঘোষেদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামবেন।” গণতান্ত্রিক পথে ব্যালটেই যে মানুষ মোক্ষম জবাব দেবে, সেই বিশ্বাসই ঝরে পড়েছে তাঁর গলায়।

উল্লেখ্য, মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নজিরবিহীন অশান্তি দানা বাঁধে। সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। প্রতিবাদীদের দাবি, বৈধ পরিচয় থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ সুপ্রিম কোর্টও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা এই বির্তককে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।

একদিকে দিলীপ ঘোষের ‘গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই’, অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমের ‘জনতার রায়ের উপর আস্থা’— এই দুই মেরুর লড়াইতে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আগামী ২৩ ও ২৯শে এপ্রিলের ভোটযুদ্ধই বলে দেবে, মোথাবাড়ির এই ক্ষোভের আঁচে কার পাল্লা ভারী থাকে। ৪ ঠা মে গণনার দিনেই পরিষ্কার হবে, কার ‘অ্যাকশন’ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলো।

Exit mobile version