Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আমেরিকায় নজিরবিহীন হেনস্থা! নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ধেয়ে এল ‘সন্ত্রাসবাদী’ স্লোগান!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দেওয়া এক নাটকীয় ঘটনায় আমেরিকার নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা হয়ে স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে নজিরবিহীন স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। ১৮ মাসের প্রধান উপদেষ্টার মেয়াদ শেষ করার পর ড. ইউনূসের এটিই প্রথম বিদেশ সফর ছিল, যেখানে বিমানবন্দরেই এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো তাঁকে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন তাঁর প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদসহ সহযোগীদের নিয়ে জেএফকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৮ দিয়ে হুইলচেয়ারে করে বের হচ্ছিলেন, তখনই বিক্ষোভকারীরা তাঁর পথ আটকায়। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত চড়া সুরে “গো ব্যাক” (ফিরে যাও) এবং “ইউ আর এ টেররিস্ট” (তুমি একজন সন্ত্রাসী) বলে চিৎকার করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, “তুমি একজন সন্ত্রাসী! তুমি বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ ও পুলিশকে হত্যা করেছ! তুমি আমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছ! কেন তুমি এই দেশে (আমেরিকায়) এসেছ? জবাব দাও।” তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনার মাঝে নিরাপত্তা কর্মীরা তড়িঘড়ি করে ড. ইউনূসকে পুনরায় বিমানবন্দর টার্মিনালের ভেতরে সুরক্ষিত জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যান।

প্রাথমিক প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভের পেছনে ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী একদল প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা মূলত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মী বলে চিহ্নিত হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং ইউএস যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী শাসনামলে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, গণগ্রেপ্তার এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর আমেরিকার মাটিতে এই ধরনের হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন। ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই ঘটনাকে সরাসরি “আওয়ামী সন্ত্রাসবাদ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “বিদেশে বসে যদি আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য এই ধরনের অপচেষ্টা চালায়, তবে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও খতিয়ে দেখে বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছে। পাশাপাশি, একজন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের প্রোটোকল ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো খামতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে ঢাকা। এই আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও প্রবাসীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

Exit mobile version