প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগে এক হাইভোল্টেজ শুনানির সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত এবং রাজ্যের আইনজীবীদের মধ্যে যে বাদানুবাদ হয়েছে, তা দেশের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মিশ্র এবং রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বলের মধ্যে বেশ কিছু তীক্ষ্ণ সওয়াল-জবাব বিনিময় হয়। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বিচারপতির উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আদালত কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কোনও অপরাধ করেছেন?” এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা এখন কিছুই ধরে নিচ্ছি না, কিন্তু এটাই তো অভিযোগ। আমাদের ভুল বুঝবেন না। প্রতিটি অভিযোগই কিছু তথ্যের উপর ভিত্তি করে হয়। যদি কোনও তথ্যই না-থাকে, তবে তদন্তের দরকারই পড়ত না। তাই তো ইডি এখানে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে।”
কেন্দ্রীয় সংস্থার অসহায়তা তুলে ধরে বিচারপতি মিশ্র প্রশ্ন করেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপ করেন, তবে আপনার মতে ইডির কী প্রতিকার চাওয়া উচিত? তারা কি সেই রাজ্য সরকারের কাছেই যাবে—যার প্রধান নিজেই মুখ্যমন্ত্রী এবং সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চাইবে?”
এই মামলার মূলে রয়েছে গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর একটি ঘটনা। কয়লা পাচার সংক্রান্ত অর্থ পাচারের (Money Laundering) তদন্তে ওইদিন কলকাতার সল্টলেকে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর অফিসে এবং তার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সেখানে উপস্থিত হন এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের কাজে বাধা দেন। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিজের হাতে নিয়ে বেরিয়ে যান। রাজ্য পুলিশ ইডি আধিকারিকদের সহযোগিতা করার বদলে উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধেই এফআইআর (FIR) দায়ের করে। এই ঘটনার পরেই ইডি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তাদের দাবি, যেখানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান নিজেই তদন্তে বাধা দিচ্ছেন, সেখানে রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা করা সম্ভব নয়। তাই গোটা ঘটনার তদন্তভার সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং আইপ্যাক অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই মামলার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
