প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বঙ্গ বিজেপিতে কি তবে এবার ‘শুভেন্দু যুগ’-এর আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ে গেল? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং গতকাল ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ প্রচারের পর এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির ‘চার্জশিট’ পেশ করতে গিয়ে শাহ যেভাবে বারবার শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়েছেন এবং তাঁর লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাতে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা এখন রীতিমত ফুটছেন।
সম্প্রতি তৃণমূল সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে একটি চাঞ্চল্যকর ‘চার্জশিট’ পেশ করেছে বিজেপি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সেই দলিলে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। অমিত শাহ নিজে যখন এই চার্জশিট নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন, তখন অন্তত তিনবার শুভেন্দুর নাম উল্লেখ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিধানসভায় ৭৭ জন বিধায়ককে যেভাবে শুভেন্দু নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অনুপ্রবেশের মত জ্বলন্ত ইস্যুকে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হাতিয়ার করেছেন, শাহের বক্তব্যে তারও দরাজ প্রশংসা শোনা গিয়েছে।
গতকালকের ঘটনাপ্রবাহে জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর—যা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র, সেখানেই গতকাল প্রচারে বেরিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বিজেপি কর্মীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুভেন্দুকে সামনে পেয়েই স্লোগান ওঠে— “ভবানীপুরে জিতবে যে, মুখ্যমন্ত্রী হবে সে!” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুকে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে প্রজেক্ট করার এই সাহস এবং আবেগ বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মনের কথা বলেই মনে করা হচ্ছে। শাহের আশীর্বাদ আর কর্মীদের এই উন্মাদনা—দুইয়ে মিলে শুভেন্দুর রাজনৈতিক গুরুত্ব এখন এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বুধবার যখন এই সমস্ত জল্পনা ও ভবানীপুরের স্লোগান নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি অত্যন্ত পরিণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেন। তিনি ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা না বলে সাফ জানান, “কর্মীরা আবেগে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু আমাদের লড়াইয়ের একমাত্র মুখ মোদীজি। কর্মীদের আবেগকে মাথায় রেখেই ভবিষ্যতে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন।”শুভেন্দুর এই একটি মন্তব্যেই তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা প্রকাশ পেয়েছে। একদিকে তিনি নিজেকে দলের একনিষ্ঠ শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিক হিসেবে তুলে ধরে ‘ব্যক্তিপূজা’র তত্ত্ব খারিজ করে দিলেন, অন্যদিকে ‘কর্মীদের আবেগ’কে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে ভবিষ্যতে যোগ্য নেতৃত্বের দাবিও সুকৌশলে বজায় রাখলেন। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, লড়াইটা এখন ব্যক্তির নয়, বরং নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের আদর্শের সঙ্গে তৃণমূলের অপশাসনের।
শুভেন্দু যেভাবে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে তৃণমূলের মোকাবিলা করছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অগাধ বিশ্বাস অর্জন করেছেন, তাতে শাসক দল তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শুভেন্দুর এই ‘মাপা চাল’ আসলে তৃণমূলের অপপ্রচারকে ভোঁতা করার অস্ত্র। একদিকে শাহের সমর্থন আর অন্যদিকে নিচুতলার কর্মীদের ভালোবাসা—এই জোড়া ফলা এখন নবান্ন দখলের লড়াইয়ে বিজেপির প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই রসায়ন আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
