Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মহাপতন কি আসন্ন? সুজিত বসুর পর এবার রথীন! সিজিও-র খাঁচায় বন্দি হতে চলেছেন আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রথতলার রথ কি এবার সোজা সিজিও কমপ্লেক্সের অন্ধকার কুঠুরিতে গিয়ে থামবে? পুর নিয়োগ দুর্নীতির মহাসমুদ্রে একের পর এক রাঘববোয়ালদের যেভাবে পতন ঘটছে, তাতে এবার চরম কম্পন শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর নাটকীয় গ্রেপ্তারের পর, তৃণমূলের দুর্নীতির দুর্গে পরবর্তী বড় ধাক্কাটি আসতে চলেছে আগামী সোমবার, ২৫ মে। দুর্নীতির ‘মহা-তলব’ পাঠানো হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষকে। ইডি-র এই কড়া সমনে কালীঘাটের অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন—সুজিতের পর এবার কি রথীনের পালা?

তৃণমূল জমানায় ‘চাকরি বিক্রি’ যে একটা লাভজনক কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছিল, তা আজ বাংলার মানুষের কাছে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন রথীন ঘোষের জামানায় যেভাবে ওএমআর (OMR) শিট জালিয়াতি করে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল, তার হিসাব মেলাতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট দাবি, এর আগে বাথরুমে পড়ে পা ভাঙার অজুহাত বা ভোটের ব্যস্ততা দেখিয়ে টানা ৫ বার কেন্দ্রীয় সংস্থার সমন এড়িয়েছেন এই প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু আইন নিজের পথেই চলে। গত ১৫ মে ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা দিয়ে যে ট্রেলার শুরু হয়েছিল, আগামী সোমবার তার ‘ক্লাইম্যাক্স’ দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।সোমবার কি তবে আরও এক ‘বড় উইকেট’ পতন?

বিজেপি তথা বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বারেবারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পিসি-ভাইপোর প্রশ্রয়ে গোটা রাজ্যটাই আজ চোরের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা থেকে পুরসভা—যেখানে হাত দেওয়া যাচ্ছে, সেখানেই শুধু টাকার পাহাড় আর ওএমআর শিটের কেলেঙ্কারি। সুজিত বসুকে যেভাবে ইডি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে, তারপর থেকে রথীন ঘোষের এই পুনঃ-তলব তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত অশনি সংকেত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইডি আধিকারিকরা এবার সমস্ত নথি ও বয়ান মিলিয়ে চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছেন।

সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে যখন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী হাজিরা দেবেন, তখন কোটি কোটি বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীর নজর থাকবে সেই দিকে। দুর্নীতি করে পার পাওয়া যে এবার অসম্ভব, তা দিল্লির কেন্দ্রীয় এজেন্সি আরও একবার প্রমাণ করতে চলেছে। এখন দেখার, সোমবারের জেরার পর প্রাক্তন মন্ত্রীর ঠিকানা সিজিও-র লক-আপ হয়, নাকি চোরের তালিকায় আরও একটি নতুন নাম যোগ হয়।

Exit mobile version