Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মুর্শিদাবাদে মহাধামাকা! জোড়া কেন্দ্রে লড়ছেন হুমায়ুন কবীর, মমতার গড়ে কি এবার বড়সড় ধস?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার রাজনীতিতে তিনি বরাবরই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’। কখনো শাসক দলের বিধায়ক, কখনো আবার বিদ্রোহী। কিন্তু এবার যা করলেন, তাতে ঘুম উবে যাওয়ার জোগাড় জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়ে দিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি একটি নয়, বরং দু’টি কেন্দ্র থেকে লড়বেন। একদিকে নিজের গড় হিসেবে পরিচিত রেজিনগর, অন্যদিকে পাশের কেন্দ্র নওদা—এই দুই আসন থেকেই নিজের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু এতে তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুনের এই ‘জোড়া চাল’ আদতে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। গত লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছিল, মুর্শিদাবাদে মুসলিম ভোট ভাগ হওয়ার সুবিধা সরাসরি বিরোধীদের দিকে গিয়েছে। এবার হুমায়ুন কবীর নিজে প্রার্থী হওয়ায় এবং তাঁর দল রাজ্যজুড়ে ১৮২ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করায়, ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে রেজিনগরে বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা ওই এলাকার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে শুধু নিজে লড়া নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও বড় চমক দিয়েছেন হুমায়ুন। ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি প্রার্থী করেছেন পুনম বেগমকে, যা খোদ কলকাতার রাজনীতিতেও আলোড়ন তৈরি করেছে। এছাড়া কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি প্রার্থী করেছেন ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাতা ইয়াসিন হায়দারকে। ভরতপুর, যেখানে তিনি বর্তমানে বিধায়ক, সেখানে এবার প্রার্থী করা হয়েছে সৈয়দ খুবাইব আমিনকে।

এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে তৃণমূলের ভেতরের দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে। শুভেন্দু অধিকারী যেমন নন্দীগ্রামের পাশাপাশি অন্য জায়গা থেকে লড়াইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, হুমায়ুনের এই রেজিনগর ও নওদা থেকে লড়ার সিদ্ধান্ত অনেকটা সেই পথেই হাঁটা। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, হুমায়ুন কবীর যদি সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন, তবে মুর্শিদাবাদের অন্তত ৮-১০টি আসনে তৃণমূলের জেতা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

এদিন তৃণমূলের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “শাসক দল মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। আমি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছি সাধারণ মানুষের উন্নয়ন আর তাদের অধিকার ফেরাতে। নওদা এবং রেজিনগর—উভয় কেন্দ্রেই মানুষ আমাকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করবে।” সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের মাটি এখন ফুটছে। একদিকে তৃণমূলের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের মত নেতার ‘প্রতিশোধের রাজনীতি’। শেষ হাসি কে হাসবে, তার উত্তর দেবে মে মাস। কিন্তু তার আগে হুমায়ুনের এই সাহসী পদক্ষেপে যে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক হাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version