প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের বুকে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করতে গিয়ে হিন্দুদের সর্বনাশ করছে বর্তমান তৃণমূল সরকার। মাঝেমধ্যেই সেই অভিযোগ তুলে সোচ্চার হতে দেখা যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় সভা করতে গিয়ে ধুলিয়ান, শামসেরগঞ্জে যে দাঙ্গা হয়েছে এবং সেখানে যেভাবে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হয়েছে, সেই কথা তুলে ধরে তৃণমূল সরকারের বিদায় ঘন্টা বাজাচ্ছেন তিনি। গতকাল মুর্শিদাবাদে সভা করতে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন তিনি বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করা হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করার পর তাকেও ঘুরিয়ে মীরজাফর খোঁচা দিয়েছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তবে মুখ্যমন্ত্রী যে মুর্শিদাবাদে হিন্দুরা সংখ্যালঘু সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বললেও, যেভাবে হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসকে খুন করা হয়েছে। যেভাবে ধুলিয়ান, শামসেরগঞ্জে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কেন একটি শব্দ বললেন না? এবার সেই প্রশ্ন তুলেই মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল মুর্শিদাবাদের সভা থেকে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অনেক কথা বলেছেন। বারবার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা শোনা গিয়েছে তার গলায়। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন, কোন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান? যেখানে হিন্দুরা সংখ্যালঘু, যেখানে তারা প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হচ্ছেন, যেখানে দাঙ্গা হয়েছে, যেখানে হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসের মত দুজন হিন্দুকে পশু কাটার তলোয়ার দিয়ে খুন করা হয়েছে? তারপরেও কেন মুখ্যমন্ত্রীর গলায় সেই ব্যাপারে কিছু শোনা গেল না? তিনি যখন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, তিনি অবশ্যই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বার্তা দেবেন। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনার নিন্দা কেন তিনি করলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। আর এসবের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর গতকাল মুর্শিদাবাদ সফর এবং তার বক্তব্য নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল রাতেই নন্দীগ্রামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেখানে মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রী যে সমস্ত বক্তব্য রেখেছেন, তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলায় হিন্দুরা যেভাবে সংখ্যালঘু বলে অত্যাচারিত হয়েছেন বা হচ্ছেন, সেই বিষয়ে তো মুখ্যমন্ত্রী আজকে কিছু বলেননি। হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস খুন হলো কেন? ধুলিয়ান, শামসেরগঞ্জে ১৬ শতাংশ হিন্দু। তাদের দেশি নৌকা করে রাত্রিবেলা ফারাক্কা পেরিয়ে বৈষ্ণবনগরে গিয়ে আশ্রয় শিবিরে খিচুড়ি খেয়ে থাকতে হলো কেন? এসব কথা তো উনি বলেননি। মুর্শিদাবাদে বারবার উগ্র মৌলবাদীদের দ্বারা শান্তিপ্রিয় জনগণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হয়েছেন। এই বিষয়ে তো মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।”
