Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মুসলিমদের ভোট নিয়ে ক্ষমতায়, আর তাদের সাথেই এরকম ব্যবহার? মমতাকে চরম ধাক্কা হুমায়ুনের!

 

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অবশেষে আজ তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হলো হুমায়ুন কবীরকে। সম্প্রতি তিনি বাবরি মসজিদ শিলান্যাসের কথা ঘোষণা করেন। যার ফলে দল এমনিতেই অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এমনিতেও তার বিভিন্ন মন্তব্য দলের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যখন মুর্শিদাবাদের সভা রয়েছে, যখন সেখানে আমন্ত্রণ পেয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর, ঠিক তখনই তার কাছে খবর আসে যে, তাকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর সাথে সাথেই সেই সভাস্থল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান তিনি। আর তারপরেই এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর যে সংখ্যালঘু প্রীতি, যেভাবে তৃণমূল সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তারা সংখ্যালঘুদের জীবন সুরক্ষিত রেখেছে, এবার তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীর।

এতদিন বিরোধীদের পক্ষ থেকে বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করতেন, এই সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ নয়. এমনকি যে সমস্ত সংখ্যালঘুরা পুরো ভোট তৃণমূলের দিকে দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে শুভেন্দুবাবু বলতেন যে, সংখ্যালঘুদের তেজপাতার মত ব্যবহার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তেজপাতা যেমন রান্নায় দেওয়া হয়, কিন্তু খাওয়া যায় না, ঠিক তেমনই সংখ্যালঘুদের ভোটের স্বার্থে ব্যবহার করে তৃণমূল। কিন্তু তাদের উন্নয়নের জন্য কোনো কাজ করে না। তাই যারা রাষ্ট্রবাদী সংখ্যালঘু মুসলমান রয়েছেন, তারা সকলেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত পোষণ করুন বলে প্রত্যেকটি সভা থেকে আহ্বান জানাচ্ছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর এসবের মধ্যেই আজ তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীরও ঘুরিয়ে কি সেই কথাই বুঝিয়ে দিলেন? যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন হুমায়ুনবাবু, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, সংখ্যালঘু ভোট কি ২০২৬ এর নির্বাচনে আরও বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে ঘাসফুল শিবিরের কাছে?

এদিন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরেই সরাসরি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “কতদিন এই ক্ষমতা থাকে দেখব। আমার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী যা খুশি করে নিক, দেখে নেব। বিজেপি সম্প্রদায়িক দল। আর মুসলিমদের বোকা বানাচ্ছে তৃণমূল। মুসলমানদের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসছে। অথচ মুসলমান জন প্রতিনিধিদের কোনো গুরুত্ব নেই।” আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, হুমায়ুনবাবু বিজেপিকে আক্রমণ করবেন, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু যে তৃণমূলকে সংখ্যালঘুরা তাদের জন্য সুরক্ষিত দল বলে মনে করে, হুমায়ুনবাবুর মত তৃণমূলের একজন বিধায়ক, যিনি আজকে সাসপেন্ড হলেন, তিনি এবার যে কথা বলে দিলেন, তাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ হুমায়ুনবাবুর সঙ্গে পা মিলিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ২৬ এর আগে বড় কোনো পদক্ষেপ নিয়ে নিতে পারেন। আর এটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে সংখ্যালঘুদের ভোট নিয়ে খুব সহজেই ক্ষমতায় আসবে বলে ভেবে নেওয়া তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে যে বড় চিন্তার ভাঁজ পড়তে চলেছে, তাতে এক প্রকার নিশ্চিত বিরোধীরা।

Exit mobile version