প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরশুমে উত্তরবঙ্গের পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের চা শ্রমিকদের মুখে হাসি ফোটাতে এক ঐতিহাসিক ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। গতকাল, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার), রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্নে আয়োজিত এক বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠকের পর স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চা বলয়ের জন্য একগুচ্ছ বড়সড় উৎসব প্যাকেজ ও আর্থিক অনুদানের ঘোষণা করেছেন। বন্ধ ও চালু—উভয় ধরনের চা বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিকের জন্য এই প্যাকেজ কার্যকর হতে চলেছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকার মানুষের কল্যাণে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিগত জমানার খামতি দূর করে উৎসবের দিনগুলিতে প্রতিটি শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ২১টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। কর্মহীনতার কারণে এই সমস্ত বাগানের শ্রমিকরা তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাঁরা পুজো বা উৎসবের বোনাস পাওয়ার যোগ্য নন, এই চরম পরিস্থিতিতে মানবিকতার খাতিরে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্ধ চা বাগানের প্রায় ১৯,৫২৪ জন যোগ্য শ্রমিকের (যাঁদের বয়স ৬০ বছরের কম) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সম্পূর্ণ এককালীন উৎসব ভাতা হিসেবে সরাসরি ৫,০০০ টাকা পাঠাবে রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর। প্রতি মাসে এই শ্রমিক পরিবারগুলি যে ৩৫ কেজি করে চাল বা খাদ্যশস্য পান, তার পাশাপাশি দুর্গাপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আরও ৫০ কেজি অতিরিক্ত চাল/খাদ্যশস্য দেওয়া হবে।
বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের নেতিবাচক মানসিকতার কারণে চা শ্রমিকরা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছিলেন।” বিগত জমানায় চালু চা বাগানগুলিতে মাত্র ১৬ শতাংশ বোনাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চালু থাকা চা বাগানগুলিতে শ্রমিকদের উৎসবের বোনাস বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার নির্দেশ জারি করেছে। তিনি জানান, দু-একটি বাগান ছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় সমস্ত চা বাগানে এই বর্ধিত বোনাস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও স্থায়ী পরিকাঠামো গঠনের জন্য কেন্দ্র সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের চা শ্রমিকদের আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ (PMCSPY)-র অধীনে ৩১২ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ করা হয়েছে। বিগত দিনে রাজ্যে এই প্রকল্প নানা কারণে থমকে থাকলেও, আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই এই মেগা স্কিমের কাজ সরাসরি মাঠপর্যায়ে শুরু হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
