Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নবান্নে রুদ্ধদ্বার মেগা বৈঠক! উত্তরবঙ্গ নিয়ে যুগান্তকারী ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা রাজ্য সরকারের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। গতকাল, ৩০ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে, রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্নে উত্তরবঙ্গের প্রায় ৪০ জন শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স (ICC)-এর উত্তরবঙ্গ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে পাহাড় ও সমতলে মেগা বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।

এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বর্তমান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, সংসদীয় ও পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি কুটির শিল্প (MSME) দফতরের প্রতিমন্ত্রী অশোক দিন্দা। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের শিল্পপতিদের সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে, তা হলো শিল্পের জন্য জমির লভ্যতা। পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ স্পষ্ট জানান, দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে শিল্পের জন্য জমির জট অনেক কম এবং সেখানে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি নবান্নের তরফ থেকে কড়া হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে—শিল্পের নাম করে জমি বরাদ্দ নিয়ে যদি কেউ দীর্ঘদিন ফেলে রাখেন, তবে সেই জমি কঠোরভাবে ফিরিয়ে নেবে রাজ্য সরকার। জমি যাতে সঠিক উপায়ে এবং দ্রুত শিল্পের কাজে ব্যবহৃত হয়, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতি তৈরি করছে বর্তমান প্রশাসন।

বৈঠকে বিগত সরকারের আমলের একের পর এক শিল্প সম্মেলন (বিজনেস সামিট) এবং সেখানে হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার অলীক বিনিয়োগের খতিয়ান ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা নিয়ে সরব হন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। সেই ভুলত্রুটি শুধরে এবার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দেন মন্ত্রীরা।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট বলেন, “বিগত সরকারের আমলে কী হয়েছিল তা সবাই জানে, আমরা ইতিহাস নিয়ে মাথা ঘামাব না। দক্ষিণবঙ্গের মতো উত্তরবঙ্গে সিন্ডিকেট রাজ বা তোলাবাজির দাপট নেই, তাই এখানে শিল্প গড়ে তোলার আদর্শ পরিবেশ রয়েছে। আমরা চাই উত্তরবঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor) এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মডেল ইন্ডাস্ট্রির বিনিয়োগ আসুক।” উত্তরবঙ্গ যাতে কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার না হয়ে গোটা বাংলারই অন্যতম অর্থনৈতিক ‘গেটওয়ে’ হয়ে ওঠে, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড চা এবং পর্যটন। বৈঠকে পর্যটন মন্ত্রী জানান, দার্জিলিং এবং ডুয়ার্সের চায়ের বিশ্বমানের স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও বিগত দিনে সেভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে তার ব্রান্ডিং করা হয়নি। এবার ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রদেশের ওয়াইনের স্টাইলে উত্তরবঙ্গের চায়ের আলাদা বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং করার বড় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি চা বাগানগুলির দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির স্বার্থে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ‘হাই-এন্ড টি ট্যুরিজম’ (High-end Tea Tourism) বা উচ্চমানের চা-পর্যটনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যেতে পাহাড় ও ডুয়ার্স মিলিয়ে আগামী দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি নতুন বড় হোটেল ও রিসোর্ট তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন পর্যটন শিল্প নীতি (Tourism Industrial Policy)-র অধীনে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই বিপুল বিনিয়োগ আনার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

বৈঠকে উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মূলত ব্যবসা সহজ করার (Ease of Doing Business) দাবি জানান। MSME ইউনিট বা অন্যান্য লাইসেন্সের অনুমোদনের জন্য যাতে বারবার কলকাতায় ছুটতে না হয় এবং জেলা স্তর থেকেই দ্রুত ছাড়পত্র মেলে, তার জন্য ‘ওয়ান উইন্ডো’ (Single-Window) ব্যবস্থার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রীরা। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এই অঞ্চলে একটি জিএসটি বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনাল (GST redressal tribunal) গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে, যা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে, নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে নবান্ন যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তা এই মেগা বৈঠক থেকেই পরিষ্কার।

Exit mobile version