Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নবান্নে নজিরবিহীন ইতিহাস! শুভেন্দুর দরবারে ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়করা, এজেন্ডায় SIR ও মেগা অ্যাকশন প্ল্যান!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো। আজ, ৭ আগস্ট ২০২৬ (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটে নাগাদ, রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হলেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের বিধায়করা। রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক জমানায় এই প্রথমবার বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি দল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো স্পর্শকাতর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসলেন।বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান, জাভেদ খান, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা, গোলাম রব্বানি এবং সাবিনা ইয়াসমিনসহ অন্যান্য বিধায়করা।

এদিনের মেগা বৈঠকের প্রধানতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা ছিল SIR (Special Intensive Revision বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন) সংক্রান্ত সমস্যা ও ট্রাইব্যুনাল গঠন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান যে, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের আবেদন বর্তমানে এসআইআর-এর বিবেচনাধীন তালিকায় আটকে রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন। ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গ থেকে পশ্চিমাঞ্চল—দূরবর্তী জেলার সাধারণ মানুষের পক্ষে জোকায় কেন্দ্রীয় ট্রাইব্যুনালে এসে শুনানিতে যোগ দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিকেন্দ্রীকরণ করে প্রতিটি জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থা চালু করার জন্য তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করেন। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগে ও আজকের বৈঠকে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে বলেন, “বিষয়টি আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত। তবে আমরা বরাবরই বলেছি যে, ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের কোথাও কোনো সামাজিক বা সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না। আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বৈঠকের দ্বিতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক খুলে নেওয়া বা শব্দদূষণ সংক্রান্ত নিয়মবিধি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন ফিরহাদ হাকিম ও জাভেদ খানসহ প্রতিনিধি দলে থাকা সংখ্যালঘু বিধায়করা। তাঁরা এই স্পর্শকাতর বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতির সাথে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতাচ্যুতির পর এবং দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের মাঝে রাজ্য জুড়ে চলা রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়েও সরব হয়েছেন বিরোধী বিধায়করা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা ভয়ে এখনও ঘরে ঢুকতে পারছেন না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে কেস দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। বৈঠকে বিরোধী বিধায়করা আক্রান্ত কর্মী ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির একটি নির্দিষ্ট তালিকা বা ডেপুটেশন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। তাঁদের যেন দ্রুত ঘরে ফিরিয়ে আনার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, সেই আরজি জানানো হয়েছে।

বিগত জমানায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী বারবার অভিযোগ করতেন যে, বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলা বা তাঁদের গুরুত্ব দেওয়ার কোনো সৌজন্য নবান্নে দেখানো হতো না। তবে আজ নবান্নের এই বৈঠক এক নতুন গণতান্ত্রিক সৌজন্যের নজির তৈরি করল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি বিরোধীদের সমস্ত গণতান্ত্রিক বক্তব্য সহানুভূতির সঙ্গে শুনবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই আজ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাজ্যের এই জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে খোলামেলা ও সদর্থক আলোচনা সম্পন্ন হয়।

Exit mobile version