প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে নতুন জাতীয়তাবাদী ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠনের পর থেকেই নবান্ন জুড়ে একের পর এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। গত ১১ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ঐতিহাসিক ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এবার নবান্নের করিডোরে নতুন জল্পনার পারদ তুঙ্গে। আজ নবান্নে অনুষ্ঠিত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সচিব পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের একাধিক নবনির্বাচিত বিধায়কের উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক চর্চা।প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নবান্নের এই গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকারের শীর্ষ আমলা ও সচিবদের পাশাপাশি শাসকদলের একাধিক প্রথম সারির বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। নিয়মমাফিক এই বৈঠকটিকে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোর প্রক্রিয়া বলা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে— এটি আসলে আগামী দিনে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণের এক অত্যন্ত সুপরিকল্পিত মহড়া।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সহ সর্বোচ্চ ৪৪ জন মন্ত্রী ক্যাবিনেটে স্থান পেতে পারেন। গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র ৫ জন বিশিষ্ট নেতা— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনীয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলত, মন্ত্রিসভায় এখনও ৩৯ টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।আজকের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে যে সমস্ত বিধায়কদের নবান্নে প্রশাসনিক তৎপরতায় সক্রিয় দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং ইন্দ্রনীল খাঁ-এর মত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নাম নিয়ে জল্পনা সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, প্রথম দফার পর খুব দ্রুতই দ্বিতীয় দফায় রাজভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে। আর সেই কারণেই নবান্নের শীর্ষ সচিবদের সাথে বিধায়কদের এই সমন্বয় বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত চালু করা, বিএসএফ-কে সীমান্ত বেষ্টনীর জন্য জমি দেওয়া এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ৫ বছরের বয়সসীমা বাড়ানোর মতো ৬টি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নবান্ন বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা সময়ের অপচয় করতে রাজি নয়। আজকের সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি মূলত সেই সমস্ত কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির জন্যই ডাকা হয়েছিল বলে সরকারি সূত্রে খবর।
তবে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি এই বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতি আগামী দিনে কার কার কাঁধে নতুন মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব আসতে চলেছে, সেই জল্পনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, নবান্নের এই জল্পনা সত্যি করে কবে রাজভবন থেকে নতুন মন্ত্রীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
