Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে পুলিশের বড়সড় অ্যাকশন! এবার শ্রীঘরে নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে গ্রেফতার হলেন নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরে জুলুম চালানো, তোলাবাজি এবং ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক অশান্তি ছড়ানোর মতো একাধিক গুরুতর ও অ-জামিনযোগ্য ধারায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর নৈহাটি তথা সমগ্র জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট সূত্রের খবর, নৈহাটির এই প্রভাবশালী প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক স্থানীয় ব্যবসায়ী, প্রোমোটার ও সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট রাজ চালানো এবং মোটা অঙ্কের তোলা আদায়ের লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছিল। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা সচল রাখার জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক দাবি করা এবং তোলা না দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়। সেই সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ আজ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে।

তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সনৎ দের বিরুদ্ধে কেবল আর্থিক দুর্নীতি বা তোলাবাজিই নয়, এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভোট পরবর্তী মারাত্মক অশান্তি তৈরি করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাধারণ কর্মীদের ওপর হামলার উস্কানি দেওয়ার একাধিক মামলাও নথিভুক্ত ছিল। বিগত দিনে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি বিঘ্নিত করার পেছনে তাঁর সরাসরি উস্কানি ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গোপন সূত্রে উঠে এসেছে। একাধিকবার নোটিশ পাঠানো ও সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা না করায় আজ তাঁকে গ্রেফতারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।নৈহাটি ও সংলগ্ন অঞ্চলের সাধারণ ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই সিন্ডিকেট চক্রের দাপটে তটস্থ ছিলেন। প্রাক্তন বিধায়কের এই গ্রেফতারির পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি কতটা প্রভাবশালী, তা বিবেচনা না করেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজই ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে স্থানীয় আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। এই তোলাবাজি চক্রের গভীরে গিয়ে আর কারা কারা এই অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করাই মূল লক্ষ্য প্রশাসনের।

Exit mobile version