প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বীরভূমের শান্ত জনপদ নলহাটি শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। রামনবমীর পুণ্যলগ্নে বের হওয়া এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ঘিরে পুলিশ ও রামভক্তদের মধ্যে চরম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামাতে হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)। স্থানীয়দের অভিযোগ, উৎসবের মেজাজে থাকা পুণ্যার্থীদের ওপর অতর্কিতে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ, যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
শুক্রবার বিকেলে নলহাটি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক রামনবমীর মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট রুটে মিছিলটি যখন এগোচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মিছিলের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। আয়োজকদের পাল্টা দাবি, তাঁরা শান্তিপূ্র্ণভাবেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশ আচমকাই ‘শোভাযাত্রা তাড়াতাড়ি শেষ করার’ জন্য চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। এই নিয়েই শুরু হয় দু’পক্ষের বচসা। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন পুলিশ মেজাজ হারিয়ে মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের ওপর চড়াও হয়। নিমেষের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রামভক্তদের দাবি, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছে, যাতে বেশ কয়েকজন ভক্ত আহত হয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন উঠে আসছে। উৎসবের দিন যেখানে পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে কেন শুরু থেকেই রামভক্তদের সঙ্গে ‘সংঘাতের’ পথে হাঁটা হলো? অনেকের মতে, মিছিল দ্রুত শেষ করার জন্য পুলিশের এই মরিয়া ভাব ছিল অনভিপ্রেত। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসকের তুষ্টিকরণ রাজনীতির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগ। যে তৎপরতা অন্যান্য মিছিলে দেখা যায় না, রামনবমীর মিছিলে কেন সেই ‘কড়াকড়ি’? তবে কি প্রশাসনের এই আচরণ ওপরতলার কোনো অলিখিত নির্দেশে? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পথে হাঁটল কেন? শান্তিপূ্র্ণ আলোচনার মাধ্যমে কি সমস্যা মেটানো যেত না? পুলিশের এই মারমুখী রূপ কি সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা তৈরি করছে না?
ঘটনার পর থেকে নলহাটির বিভিন্ন মোড়ে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। যদিও পুলিশের তরফে লাঠিচার্জের বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি; তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘সামান্য বলপ্রয়োগ’ করা হয়েছে মাত্র। অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবি তুলেছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে থাকলেও পুলিশি নজরদারিতে তা আপাতত নিয়ন্ত্রণে।
