Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নন্দীগ্রামে এ কী খেলা শুরু হলো! ভোটের দিন ঘোষণা হতেই তোলপাড় ফেলা কোন মেগা চাল বিজেপির?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের এই হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার পরই পূর্ব মেদিনীপুরের এই রণক্ষেত্রে নিজেদের জমি ধরে রাখতে ও নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করতে এক চরম ও অভাবনীয় চাল চেলেছে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি।এই উপনির্বাচন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই। কারণ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি পদত্যাগ বা শূন্য করে ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে দেন, যার ফলে এই উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে।

বিজেপি শিবিরের তরফ থেকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না। নন্দীগ্রামের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব মাথায় রেখে সমগ্র আসনটিকে ৫টি বিশেষ মণ্ডলে ভাগ করা হয়েছে। নির্বাচনী লড়াই পরিচালনা ও প্রতিটি বুথ স্তরে সংগঠনের রাশ শক্ত করতে ৫ জন প্রভাবশালী বিজেপি বিধায়ককে ৫টি মণ্ডলের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই এই বিধায়করা সরাসরি মাঠে নেমে জনসংযোগ ও রণকৌশল সাজানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাঝেই নন্দীগ্রামে সবার আগে বাজিমাত করেছে জাতীয় কংগ্রেস। আসনটিতে হাইপ্রোফাইল লড়াইয়ের জমি প্রস্তুত করে কংগ্রেস হাইকমান্ডের সম্মতিতে সর্বাগ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেস্টিজ ফাইটে হাত শিবিরের বাজি হলেন স্থানীয় স্তরে জনপ্রিয় মুখ মিলন প্রধান। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অনুমোদনের পর মিলন প্রধানের নাম সরকারিভাবে ঘোষণা হতেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ভোটগ্রহণের তারিখ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ (মঙ্গলবার)। ভোট গণনা ও ফলাফল: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ (শুক্রবার)। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপির এই নজিরবিহীন দুর্গ রক্ষা করার লড়াই বনাম বিরোধীদের কামব্যাক করার এই মরণ-বাঁচন যুদ্ধ—৬ অক্টোবরের ইভিএম-এ কার ভাগ্য বন্দি হয়, তার দিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

Exit mobile version