Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

খেলা শুরুর আগেই মাঠ ছাড়ল ‘ফুটবলার’! নন্দীগ্রামে মমতা-তৃণমূলের অস্তিত্ব এখন কংগ্রেসের ভরসায়!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গতকাল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মেগা পোলিং শেষ হতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বাংলার আগামীর রাজনৈতিক মানচিত্র। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর, ৯ অক্টোবর ইভিএম-এর গণনা। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইভিএম বাক্স খোলার আগেই গতকাল ব্যালটে যে নজিরবিহীন ‘রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ’ সম্পন্ন হয়ে গেল, তা বিরোধী শিবিরের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে পুরনো ঘাসফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন দল ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এই উপনির্বাচনে ‘ফুটবলার’ প্রতীক বেছে নিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে, নন্দীগ্রামের মত হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে খেলা শুরু হওয়ার আগেই মাঠ ছেড়ে দিতে হলো সেই ‘ফুটবলার’-কে।

নন্দীগ্রামের মাটিতে যেখানে বিজেপির হেভিওয়েট দুর্গ ভাঙার হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছিল, সেখানে ভোটের দিন লড়াই থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেল মমতা শিবিরের নাম। শেষ মুহূর্তে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়ে তারা হাত মেলাল কংগ্রেসের সঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বিশ্লেষণ বলছে, নিশ্চিত পরাজয় এবং ভোট শতাংশের করুণ খতিয়ান আড়াল করতেই কি এই মরিয়া চেষ্টা? নিজের পায়ে না খেলে কংগ্রেসের পায়ে বল ঠেলে দেওয়ার এই পদক্ষেপ আসলে নিচুতলার কর্মীদের পুরোপুরি দিশেহারা করে দিয়েছে। ভোটের দিন নন্দীগ্রামের বুথে বুথে ‘ফুটবলার’ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের দেখা না মেলায় রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—যে দল নন্দীগ্রামে নিজেদের প্রতীকে একটা প্রার্থী পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না, গ্রাউন্ড রিয়্যালিটিতে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখন ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি এবং বুথ স্তরের মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট প্রথম থেকেই ছিল ইস্পাতকঠিন। নতুন বিজেপি সরকারের উন্নয়ন নীতির ওপর ভরসা রেখে গতকাল সাধারণ মানুষ যেভাবে নির্ভয়ে, কোনো অশান্তি ছাড়াই উৎসবের মেজাজে বুথমুখী হয়েছেন, তাতেই ঘুম উড়েছে বিরোধীদের। এককালে যে নন্দীগ্রামকে আন্দোলনের ভরকেন্দ্র বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হয়েছিল, আজ সেখানেই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে অন্য দলের করুণার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে মমতা শিবিরকে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্তিতে। দলীয় প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে ময়দান ছাড়ায় নতুন প্রতীক ‘ফুটবলার’ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতেই পারেনি। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ আবার নিজেদের ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমে মমতা-তৃণমূলের পুরনো ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়েছে। ফলে ঘাসফুলের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্ক আজ আড়াআড়ি বিভক্ত। রাজনৈতিক পণ্ডিতদের স্পষ্ট দাবি, ‘ফুটবলার বনাম খাম’—এর এই আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধ এবং ভোটের আগেই কংগ্রেসের কাছে মাথা নোওয়ানোর সরাসরি ফায়দা তুলতে চলেছে পদ্ম শিবির। ৯ অক্টোবরের ফলাফল প্রকাশের দিন এই দিশেহারা বিরোধী রাজনীতির খেসারত দিয়ে তারা যে আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বে, তা গতকালের প্রায় ৮০ শতাংশের নজিরবিহীন ভোটগ্রহণ এবং বুথের লাইনে থাকা আমজনতার শরীরী ভাষাই পরিষ্কার করে দিয়েছে।

Exit mobile version