Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নন্দীগ্রামে রামনবমীর জনসমুদ্র, রামরাজ্য গড়ার ডাক দিয়ে রাজপথে শুভেন্দু!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রামে শুক্রবার রামনবমী উদযাপন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল। গেরুয়া ধ্বজা আর ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হল মেদিনীপুরের মাটি। এদিনের কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিল যে, নন্দীগ্রাম আজও সনাতনী সংস্কৃতির এক শক্তিশালী দুর্গ। এই বিশাল শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুক্রবার বেলা বাড়ার সাথে সাথেই নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ায় জমায়েত হতে শুরু করেন হাজার হাজার ভক্ত। সেখান থেকেই শুরু হয় মূল শোভাযাত্রা। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদযাত্রার পুরোভাগে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি টেঙ্গুয়া থেকে পদযাত্রা শুরু করে জানকীনাথ মন্দিরে গিয়ে শেষ করেন। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ফুল ছিটিয়ে শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান। জানকীনাথ মন্দিরে পৌঁছে শুভেন্দু অধিকারী আরতি ও বিশেষ পুজোয় অংশ নেন। উৎসবের আনন্দ যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য টেঙ্গুয়া থেকে জানকীনাথ মন্দির পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ ড্রোন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, এবারের রামনবমীর প্রাক্কালে বেশ কিছুদিন আগেই নন্দীগ্রামের ভেটুরিয়া এলাকায় ভগবান শ্রীরামের একটি নির্মাণাধীন মূর্তি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছিল। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের এই ঘৃণ্য কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এদিনের মিছিলে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়। শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘জিহাদি মানসিকতা’র পরিচয় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং রাজ্য প্রশাসনের তোষণ নীতির কড়া সমালোচনা করেন। এদিনের ভিড় যেন সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ হিসেবেই উঠে এল।

এবারের রামনবমী শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও পরিগণিত হচ্ছে। বিরোধী দলনেতার ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ‘রামরাজ্য’ গড়ার ডাক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নন্দীগ্রামের এই বিপুল জনসমাগম স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিভাজনের রাজনীতির বদলে মানুষ এখন সনাতনী ঐক্যের দিকে ঝুঁকছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রামনবমীর এই জমায়েত আসলে আগামী দিনে বাংলায় পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত।

শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায়, “বাংলা এখন রামরাজ্য চায়, যেখানে মহিলাদের সুরক্ষা থাকবে এবং অনুপ্রবেশ কারীদের ঠাঁই হবে না।” শাসক দলের তোষণ রাজনীতির বিপরীতে এই সুশাসনের মডেলকেই হাতিয়ার করছে গেরুয়া শিবির। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি আজ রাজ্যের কোণায় কোণায় যে কয়েক হাজার রামনবমীর মিছিল বের হয়েছে, তা বুঝিয়ে দিচ্ছে বিজেপি তার ঘর গোছাতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের এই রামনবমীর মিছিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয়—উভয় দিক থেকেই এক নতুন মেরুকরণের পথ প্রশস্ত করল। ভক্তদের উদ্দীপনা আর শুভেন্দু অধিকারীর রণকৌশল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Exit mobile version