Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর হুঙ্কার: “চোরেদের গ্যারেজ করতে আমি একাই একশ”, বিঁধলেন তোষণ ও দুর্নীতির রাজনীতিকে!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র নন্দীগ্রামে ফিরলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত ২২ মার্চ, রবিবার দিনভর নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিলেন, এই মাটি তাঁর আবেগের এবং এখানে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। গতকালের মেজাজ থেকে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শাসকদল তৃণমূলের জন্য নন্দীগ্রামের লড়াই এবার আরও কঠিন হতে চলেছে।

এদিন সকালে ভাঙাবেড়িয়ায় শহিদ বেদিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু অধিকারী। ২০০৭-এর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি বর্তমান তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। শুভেন্দুর দাবি, আন্দোলনের সময় যাঁদের দেখা যায়নি, আজ তাঁরাই ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতি করছেন। জনসভা থেকে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে গ্যারেজ করতে আমার কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই, আমি একাই যথেষ্ট।” তিনি আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামের মানুষ ‘বেইমানদের’ সঠিক জবাব দেবে।

গতকাল শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ভেটুরিয়ায় একটি রাম মূর্তির মস্তকচ্ছেদের ঘটনা। এই নক্কারজনক ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি শাসকদলের ‘তোষণ নীতি’কে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এক বিশেষ ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতে গিয়ে রাজ্যে হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করা হচ্ছে। শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদতেই এলাকায় উগ্র মানসিকতার প্রসার ঘটছে। তবে সাধারণ মুসলিম সমাজ আমাদের সঙ্গে আছে, অশান্তি পাকাচ্ছে কেবল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।”

এদিনের কর্মসূচির একটি বিশেষ দিক ছিল নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির সামনে দিয়ে শুভেন্দুর কনভয় যাওয়া। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় কনভয়ের সাথে থাকা কয়েক হাজার সমর্থক ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের যে তীব্র ঘৃণা তৈরি হয়েছে, এই স্লোগান তারই বহিঃপ্রকাশ।

নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা দিয়ে শুভেন্দু এদিন ঘোষণা করেন যে, ২০২৬-এর ভোটে বুথ স্তরে কড়া নজরদারি চালাবেন বিজেপি কর্মীরাই। তাঁর বিশ্বাস, ২০২১-এর চেয়েও বড় ব্যবধানে এবার নন্দীগ্রামে পদ্ম ফোটাবেন স্থানীয় মানুষ। পুলিশ বা প্রশাসনের একাংশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জনতার আদালতই চূড়ান্ত ফয়সালা করবে।”

রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এদিন শুভেন্দুর মানবিক রূপও দেখা যায়। বয়ালের এক শহিদ পরিবারের বাড়িতে সাদামাটাভাবে মাটিতে বসে মধ্যাহ্নভোজন সারেন তিনি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন। শুভেন্দু দাবি করেন, নন্দীগ্রামের প্রতিটি ঘরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক, যা কোনো রাজনৈতিক সমীকরণে ভাঙা সম্ভব নয়।

গতকালের কর্মসূচি শেষে এটি পরিষ্কার যে, শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়ন ও হিন্দুত্ব—এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখেই নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। তৃণমূলের দুর্নীতি ও তোষণের বিরুদ্ধে তাঁর এই লড়াই আগামী দিনে রাজ্যে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version