Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নন্দীগ্রামে লঙ্কাকাণ্ড! কালীঘাটের প্রার্থী পছন্দ নয় খোদ ঘরের নেতারই, ক্যামেরার সামনেই জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের হারের ভবিষ্যৎ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই চরম নাটকীয় মোড় পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক অলিন্দে। কালীঘাট-তৃণমূলের তরফে সঞ্চিতা প্রধান দে-র নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পরেই দলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে তীব্র গৃহযুদ্ধ। দলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করে খোদ নন্দীগ্রামের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি আবু তাহের অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের অন্দরের এই ফাটল ও ক্ষোভের কথা গোপন না রেখে আবু তাহের সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্থানীয় নেতৃত্বকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দলীয় প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ আবু তাহের ক্যামেরার সামনে সরাসরি দাবি করেন, “আমি শুনেছি সঞ্চিতা প্রধান দে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আসলে ভোটে লড়াই করার জন্য একজন প্রার্থী দিতে হয়, তাই নিয়মরক্ষা করতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই নামটা দিয়ে দিল! এর ফলাফল কী হবে তা নন্দীগ্রামের ছোট থেকে বড় সব মানুষই ভালো করে জানে। এখানে তৃণমূল নিশ্চিতভাবে হারবে এবং বিজেপি এগিয়ে থাকবে।” খোদ ঘরের নেতার মুখেই দলের এই নিশ্চিত পরাজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।

কালীঘাট তৃণমূলের তরফে ঘোষিত নতুন মুখ সঞ্চিতা প্রধান দে পেশায় একজন প্রাথমিক শিক্ষিকা এবং নন্দীগ্রাম বয়াল-২ এলাকার বাসিন্দা। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দল টিকিট না দেওয়ায় তিনি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন এবং পরাজিত হন। পরবর্তীতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের হাত ধরে তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ২০১৪ সালের প্রাতিষ্ঠানিক টেট নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে যে ২৬৯ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছিল, সঞ্চিতা প্রধান দে ছিলেন তাঁদেরই একজন (যদিও পরে সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তিনি কাজে যোগ দেন)। এই বিতর্কিত অতীতকে সামনে রেখেই ইতিমধ্যেই সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির।

নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সময় থেকে প্রথম সারিতে থাকা শেখ সুফিয়ান কিংবা আবু তাহেরদের মতো পুরোনো ও স্থানীয় নেতাদের এবার উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য দলের অন্দরে তীব্র জল্পনা ছিল। কিন্তু আবু তাহের আগেই প্রার্থী হতে নিজের অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংগঠন ও নেতাদের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যেভাবে উপরতলা থেকে নাম চাপিয়ে দেওয়া হলো, তা নন্দীগ্রামের কর্মীদের একাংশের দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মেগা উপনির্বাচন। তার ঠিক আগে খোদ দলেরই প্রথম সারির নেতার এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং ‘তৃণমূলের হার’-এর ঘোষণা ভোটের ময়দানে প্রতিপক্ষকে অনেকটা সুবিধা করে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version