প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মুখে আবারও মারাত্মক রাজনৈতিক হিংসার ছায়া। কংগ্রেসের প্রচার গাড়িতে হামলার ঠিক পরদিনই এবার নন্দীগ্রামে সরাসরি আক্রান্ত হলেন বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই (CPI) প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি আটকে বাম প্রার্থীর ওপর চড়াও হওয়া এবং তাঁকে মারধর করার তীব্র অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় বহুগুণ চড়ে গিয়েছে এবং মাঝরাত থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলেন বামফ্রন্ট প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন আচমকাই লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে একদল দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। বাম প্রার্থীর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি হামলা চালানো হয়। শুধু গাড়ি ভাঙচুরই নয়, শান্তিগোপাল গিরিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বাম কর্মী-সমর্থকেরা তাৎক্ষণিকভাবে সাহসিকতার সাথে এই অতর্কিত আক্রমণ প্রতিহত করায় দুষ্কৃতীরা এলাকা ছাড়ে, তবে এই হামলায় প্রার্থী নিজে এবং বেশ কয়েকজন বাম কর্মী কমবেশি আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক আগের দিনই নন্দীগ্রামের ইন্দিরা মোড়ের কাছে কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে চলা একটি প্রচার ট্যাবলো গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট-পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে কংগ্রেসের সেই প্রচার গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রথমে কংগ্রেসের প্রচার গাড়ি এবং পরে মূল ধারার বামফ্রন্ট প্রার্থীর ওপর এই হামলার ঘটনায় স্বভাবতই আঙুল উঠেছে এলাকার বর্তমান প্রভাবশালী শাসকদল বিজেপির দিকে। বামেদের অভিযোগ, পরাজয়ের চরম আতঙ্কে ভুগেই বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাবাহিনী বিরোধীদের ওপর এই কাপুরুষোচিত আক্রমণ নামিয়ে আনছে।
বিরোধী সিপিআই ও সিপিএম-এর পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর এই গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও, গেরুয়া শিবির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নস্যাৎ করেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “এই হামলার সাথে বিজেপির কোনও দূর-দূরান্তের যোগ নেই। বিধানসভা নির্বাচনে নগণ্য ভোট পাওয়া দলগুলি এখন সস্তার প্রচার পেতে এবং খবরে আসার জন্য নানা নাটক করছে।” এদিকে, এই হামলার ঘটনার পর মাঝরাতেই নন্দীগ্রাম থানার সামনে জড়ো হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন সিপিআইএম ও বামফ্রন্টের কর্মী-সমর্থকেরা। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বাম নেতৃত্ব। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও বড়সড় অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
