Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার! রবিবাসরীয় প্রচারে ফুটছে নন্দীগ্রাম-রেজিনগর! হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী?

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরসুমের আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়া চরম উত্তপ্ত। আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ রাজ্যের দুই হেভিওয়েট বিধানসভা কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। গতকাল, ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। স্ক্রুটিনি পর্ব এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা পার হতেই আজ, প্রথম রবিবারে কোমর বেঁধে প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। দলীয় প্রতীক ফ্রিজ হওয়া, নাটকীয় দলবদল এবং একের পর এক হেভিওয়েট গ্রেফতারির ঘটনার পর আজকের রবিবাসরীয় প্রচারকে ঘিরে দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক উন্মাদনা তুঙ্গে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসন ধরে রাখতে নন্দীগ্রামে নিজের পূর্ণ শক্তি মোতায়েন করেছেন। বিজেপির তরফ থেকে এবার প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত চন্দ্রমোহন রথের মা হাসিরানি রথকে। আজ ছুটির দিনে নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া, রেয়াপাড়া ও ভেটুরিয়া এলাকায় জোরকদমে দেওয়াল লিখন, বাইক মিছিল এবং নিবিড় জনসংযোগ সারে বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের বিরোধী শিবিরে সমীকরণ প্রতি মুহূর্তে পাল্টাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে নাটকীয়ভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই আসনে তাঁদের কোনো নিজস্ব প্রার্থী নেই। এরপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করার ঘোষণা করেন। কিন্তু সমর্থনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের সময়কার পুরনো মামলায় পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে। কংগ্রেস প্রার্থী বর্তমানে জেল হেফাজতে থাকায় তিনি মাঠে নামতে পারছেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতেই আজ বাম-কংগ্রেস এবং মমতা অনুগামীরা যৌথভাবে নন্দীগ্রামের মাঠে প্রচার সচল রাখার চেষ্টা করছে।

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনেও প্রথম রবিবারের প্রচার ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী গতকাল দুপুরে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও, দলনেত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর রাতে চরম ‘ইউটার্ন’ নেন এবং লড়াইয়ে থাকার কথা জানান। আজ দুপুরে বেলডাঙার দলীয় কার্যালয়ে একাধিক বিধায়ককে নিয়ে মেগা রণকৌশল বৈঠক সেরে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন রবিউল। পাল্টা হিসেবে, রেজিনগরের মূল দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর দলীয় কর্মীদের লাগাতার পুলিশি হেনস্থা ও গ্রেফতারির অভিযোগে আজ মাঠের প্রথাগত প্রচার বয়কটের ঘোষণা করেছেন। দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এখন ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারের নতুন স্ট্র্যাটেজি নিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার আজ রেজিনগরের বিভিন্ন ব্লকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রবিবাসরীয় দেওয়াল লিখন ও প্রচার সারেন। দুই কেন্দ্রেরই বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে রবিবারের এই ঝোড়ো প্রচার স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ৬ অক্টোবরের ইভিএমের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও কেউ কাউকে ছাড়তে নারাজ।

Exit mobile version