Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নজিরবিহীন ভোটদান নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে! পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি এবার ‘পুনর্নির্বাচনের’ দাবিতে সরব কংগ্রেস? উঠছে বড় প্রশ্ন!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কড়া নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন নজরদারির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দুই হাইপ্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন মূলত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হলো। আজ, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকেই বুথে বুথে সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত এবং দীর্ঘ লাইন নজর কেড়েছে। তবে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হতে না হতেই, ফলাফল প্রকাশের আগেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে ‘ভোট লুঠ’ ও ‘সন্ত্রাসের’ অভিযোগ তুলে সম্পূর্ণ পুনর্নির্বাচনের দাবি করা হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আজ বিকেল গড়াতেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দুই আসনেই সম্পূর্ণ পুনর্নির্বাচনের (Total Re-polling) দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এবং সাধারণ ভোটারদের মনে বেশ কিছু গুরুতর ও যৌক্তিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে রেকর্ড ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে (নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি) যেখানে সাধারণ মানুষ এত বিপুল সংখ্যায় ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন, সেখানে ঢালাও ‘ভোট লুঠের’ অভিযোগ কতটা ধোপে টেকে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের প্রশ্ন—যদি সর্বত্রই ভোট লুঠ বা ভোটারদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটত, তবে ভোটের এই বিপুল গ্রাফ কীভাবে সম্ভব হলো?

কংগ্রেসের বর্তমান ভূমিকা দেখে ভোটার ও রাজনৈতিক শিবিরের একটি বড় অংশ বিগত তৃণমূল (TMC) সরকারের আমলের পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন: বিগত সরকারের আমলে যখন বুথ দখল, ব্যালট বাক্স ভাঙচুর বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা নিয়মিত শিরোনামে আসত, তখন কংগ্রেসের ভূমিকা কী ছিল? আজ দিল্লির বুকে যে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার স্বার্থেই কি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে হওয়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিরুদ্ধে সরব হতে হচ্ছে কংগ্রেসকে? জোটের অস্তিত্ব রক্ষায় এবং তৃণমূলের একাংশের পরোক্ষ সমর্থনে সায় দিতেই কি হারের আগাম অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে?তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের বার্তা দিয়েছিলেন, যা এই রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করে। তাই রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, আগামী ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) ভোট গণনার আগেই সম্ভাব্য পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি এই পুনর্নির্বাচনের দাবিকে হাতিয়ার করছে কংগ্রেস?

ভোট চলাকালীন দুই কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। রেজিনগর আসনের কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি ভোটের অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। অন্যদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) আনন্দজিৎ হোড়ের নেতৃত্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান বেশ কিছু বুথ পরিদর্শনে গেলে সাধারণ ভোটারদের একাংশের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন।ভোটারদের দাবি ছিল, শান্তিপূর্ণ উৎসবের আবহে প্রার্থীরা অযথা উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।

কংগ্রেসের এই অভিযোগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে সম্পূর্ণ ভীতিমুক্ত ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব হয়েছে। বিরোধীদের বুথে বসার মতো পর্যাপ্ত সাংগঠনিক শক্তি নেই, তাই নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে এবং পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তারা এই ধরনের কাল্পনিক অভিযোগ তুলে গণতন্ত্রের উৎসবকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ (শুক্রবার) ইভিএম খোলার পরই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, সাধারণ মানুষ কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সমর্থন করেছে নাকি প্রত্যাখ্যান করেছে।

Exit mobile version