প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উপনির্বাচনের ভোট গণনার ট্রেন্ড যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বিরোধী শিবিরের কঙ্কালসার দশা। একদিকে রেজিনগরে প্রথম রাউন্ডেই বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭,০০০-এরও বেশি ভোটের লিড নিয়ে কার্যত জয়ের দিকে এগোচ্ছেন, অন্যদিকে রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও জারি রয়েছে প্রবল পদ্ম-ঝড়। গণনাকেন্দ্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক ও অসরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে গণনার শুরু থেকেই অন্যান্য সমস্ত প্রতিদ্বন্দীকে বহু পেছনে ফেলে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ভারতীয় জনতা Parti (BJP)-র প্রার্থী হাসিরানি রথ। বিজেপির এই একচ্ছত্র আধিপত্যের সামনে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য বিরোধীদের মধ্যে যে তীব্র কামড়াকামড়ি চলছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।
হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ প্রথম থেকেই যে লিড নিতে শুরু করেছেন, তা ভাঙার ক্ষমতা বাকিদের নেই বলেই দাবি পদ্ম শিবিরের। তবে এই কেন্দ্রে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো বিরোধী ভোটের বিন্যাস। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, হাসিরানি রথের পেছনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে লড়াই চালাচ্ছে বামফ্রন্ট এবং সিপিআই। রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামে মূল ধারার বিরোধীদের কার্যত হটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের এই লড়াই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মানুষ বিজেপির বিকল্প হিসেবে কাদের বেছে নিচ্ছেন।
এদিকে রেজিনগর কেন্দ্রের চিত্রটি আরও নাটকীয়। সেখানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার যখন পোস্টাল ব্যালটে ২,০০০ এবং প্রথম রাউন্ড শেষে ৭,০০০-এরও বেশি ভোটে এগিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছেন, তখন বাকি দলগুলোর মধ্যে চলছে রুপোলি পর্দার মতো ওলটপালট। গণনাকেন্দ্রের সূত্র অনুযায়ী, রেজিনগরে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে তীব্র লড়াই চলছে বিরোধীদের মধ্যে। কখনও সেখানে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP), কখনও আবার সেখানে মাথা তুলছে কংগ্রেস। মাঝেমধ্যে তালিকায় উঁকি দিচ্ছে তৃণমূলও। বিজেপি শিবিরের কটাক্ষ, “যারা একসময় নিজেদের এক নম্বর দাবি করত, তারা এখন ভোট গণনাকেন্দ্রে দুই আর তিন নম্বরের মিউজিক্যাল চেয়ার খেলছে।” ইভিএম গণনার রাউন্ড যত বাড়ছে, বিজেপির জয়ের ব্যবধান ততই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভোট ম্যানেজাররা।
