প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে কার্যত ‘একলা চলো’ নীতি নিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিল বিধান ভবন। বামেদের সঙ্গে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে জোটের মোহ ত্যাগ করে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৮৪টিতেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস। বিশেষত, তৃণমূলের তথাকথিত ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর— সর্বত্রই নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করিয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিল হাত শিবির।
তৃণমূল নেত্রীর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রদীপ প্রসাদকে। অন্যদিকে, মেগা-ফাইট কেন্দ্র নন্দীগ্রামে সেখ জারিয়াতুল হোসেনকে প্রার্থী করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানোর ঘুঁটি চেলেছে তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে এই এলাকায় ভোট মেরুকরণ স্পষ্ট ছিল। এবার কংগ্রেস আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে যদি সামান্য ধসও নামে, তবে তার সরাসরি সুবিধা পেতে পারে পদ্ম শিবির।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে ফের লড়াইয়ে নামছেন বর্ষীয়ান নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের কাছে হারের পর অধীরের এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে কংগ্রেসের শক্তিশালী সংগঠন তৃণমূলের ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ রাজনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হাসনে মিল্টন রশিদ বা চাকুলিয়ায় ভিক্টরের মতো পরিচিত মুখদের প্রার্থী করা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
সুবিধা কার?
কংগ্রেসের এই একক লড়াইয়ে রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ আমূল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা। তৃণমূল ও কংগ্রেসের ভোট মূলত একই উৎস থেকে আসে। কংগ্রেস আলাদা লড়লে তৃণমূলের ভোট কাটাকাটি হবে, যা বিজেপি-র জয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। বাম-কংগ্রেস জোট না হওয়ায় বিজেপি-বিরোধী ভোট এখন তিন ভাগে বিভক্ত— তৃণমূল, বাম-আইএসএফ এবং কংগ্রেস। এই বিভাজনই বিজেপি-র জন্য সোনার সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কলকাতার মানিকতলায় সুমন রায়চৌধুরী, টালিগঞ্জে মানস সিনহা রায় এবং কসবায় মহম্মদ জিশান আহমেদকে প্রার্থী করে শহর ও শহরতলিতেও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস।
রাজ্যের ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের দুই দফার নির্বাচনে এই ‘ত্রিমুখী লড়াই’ শেষ পর্যন্ত কাকে নবান্নের পথে এগিয়ে দেয়, সেটাই এখন দেখার। তবে কংগ্রেসের ২৮৪ আসনের প্রার্থী তালিকা যে তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
