প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মর্যাদার লড়াইয়ের ঠিক মুখে এক নজিরবিহীন আইনি নাটক এবং বড়সড় রাজনৈতিক স্বস্তি! অবশেষে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন নন্দীগ্রামের হেভিওয়েট কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। আজ, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে এসে প্রার্থীর এই মুক্তি ভোটযুদ্ধে কংগ্রেস শিবিরে বিরাট অক্সিজেন দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার পুরোনো মামলার ভিত্তিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর ধারায় মোট ৬টি মামলা সচল করা হয়েছিল। আজ শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে, উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পরেই মিলন প্রধানকে তড়িঘড়ি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রচারের সুযোগ সুনিশ্চিত করতে বিচারপতি তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিনে জেলের বাইরে থাকবেন মিলন প্রধান। তবে আদালত জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে।
প্রতিটি মামলায় ২০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতে হবে। জামিনদার হিসেবে স্থানীয় কাউকে থাকতে হবে এবং মিলন প্রধানের আত্মীয়দের জমির দলিল বা ফিক্সড ডিপোজিট জমা দিতে হবে। জামিনে মুক্ত থাকাকালীন মিলন প্রধানকে নিজের সচল মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী আধিকারিকদের (IO) দিয়ে রাখতে হবে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৯টায় তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় ফোন করে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে হবে।উপনির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল মিটে যাওয়ার পর আগামী ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে আবার নিম্ন আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
আগামী ৬ই অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মর্যাদার লড়াইয়ের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি শিবিরের অন্যতম শীর্ষনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে শেষ লগ্নে এসে মিলন প্রধান জেলের বাইরে পা রাখায় নন্দীগ্রামের ভোট ময়দান আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে মিলন প্রধান এখন মুক্ত বাতাসে নিজের এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচারের ঝড় তুলতে পারবেন।
