প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে এবার তীব্র জল্পনা শুরু হলো ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)-এর অন্দরমহলকে ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে দিল্লির বুকে যে ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনসিপিআই শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন, তাঁদের নতুন দলের নাম পরিবর্তন নিয়ে হঠাৎ করেই শুরু হয়ে গেল এক নতুন বিতর্ক। জল্পনার মূল কারণ বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিকিৎসক পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট। ফেসবুকের সেই পোস্টে তিনি সরাসরি “বহুজন এনসিপিআই” (Bahujan NCPI) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন। সেখান থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছে—NCPI কি তবে এবার নাম বদলে বহুজন সমাজ NCPI হতে চলেছে?
বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার তাঁর পোস্টে দলিত, মুসলিম, আদিবাসী-জনজাতি, ওবিসি, মতুয়া এবং নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষকে এই ‘বহুজন এনসিপিআই’ প্ল্যাটফর্মে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। শুধু তাই নয়, পোস্টে পরিষ্কার লেখা হয়—এই নতুন পরিকাঠামোয় সমস্ত দলীয় পদে অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণিগুলির জন্য ২৫ শতাংশ কোটা বা প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর এবং ঠিকানাও দেওয়া হয় সেই পোস্টে। এই পোস্ট ছড়াতেই দলের বাকি নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।
এই বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই এনসিপিআই শিবিরের অন্যান্য সদস্যদের ক্ষোভ সামনে চলে আসে। দলটির অন্যতম শীর্ষনেত্রী তথা সাংসদ মালা রায় এই বিষয়টিতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তেই আছি, এই নামবদল নিয়ে আমাদের অন্দরে কোনো আলোচনাই হয়নি।” দল যে কোনো একক ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মতামতে চলতে পারে না, সমস্ত সিদ্ধান্ত যৌথভাবে নেওয়া হয়—সেই বার্তাও কড়া শব্দে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং দলের বাকি সাংসদদের ভার্চুয়াল ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে পড়ে দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবার। চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সুর নরম করে দাবি করেন, এটি কোনো নতুন রাজনৈতিক দল বা দলের অফিশিয়াল নামবদল নয়। এটি আসলে এনসিপিআই দলের ছাতার তলায় অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে তৈরি একটি সামাজিক ‘উইং’ বা ট্রাস্ট, যা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও সমাজসেবামূলক কাজ করবে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার পুরো ঘটনার দায় চাপিয়েছেন তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের ওপর। তিনি স্পষ্টীকরণ দিয়ে বলেন, “কাদের জন্য আমরা কাজ করব, সেটা বোঝাতেই ‘বহুজন’ বিশেষণটি ব্যবহৃত হয়েছিল। আমাদের দলে কোনো কোন্দল নেই। পিছিয়ে পড়া মানুষ, দলিত ও নারীদের—অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে চলাই আমাদের দলের মূল দর্শন।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও সংসদের খাতায় আইনি মার্জারের চূড়ান্ত সিলমোহর এখনও মেলেনি, ফলে স্পিকারের নথিতে তাঁদের নামের পাশে এখনও পুরনো দলের নামই বহাল রয়েছে। এই অনিশ্চিত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার আবহে দলের রাশ কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে অন্দরের চোরাস্রোত ও মতানৈক্যই কাকলি-পুত্রের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে হুড়মুড়িয়ে প্রকাশ্যে চলে এলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
