প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা NEET-UG প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে এবার এক চরম এবং নজিরবিহীন বিস্ফোরক দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। সিবিআই-এর পেশ করা অফিসিয়াল চার্জশিটে উঠে এসেছে যে, কোনো বাইরের হ্যাকার, গ্যাং বা প্রিন্টিং প্রেস নয়, বরং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের একাংশই সরাসরি এই প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের মূল চক্রী হিসেবে জড়িত ছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা তথ্যের পর গোটা দেশের শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে খোদ পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার ভেতরের লোকেরাই ছিনিমিনি খেলেছিল, তা সিবিআই-এর নথিতে স্পষ্ট।
তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে পেশ করা চার্জশিটে স্পষ্ট অভিযোগ করেছে, এনটিএ (NTA)-র তিনজন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ (Subject Experts) প্রশ্নপত্র তৈরি, অনুবাদ এবং প্রুফ রিডিংয়ের সময় তাঁদের দেওয়া অনুমোদিত সরকারি অ্যাক্সেসের (Authorised Access) চরম অপব্যবহার করেছেন। এই তিন বিশেষজ্ঞ কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স এবং বায়োলজির প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রমাণ না রেখে অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রশ্নগুলি বাইরে পাচার করা হয়েছিল। গোপন ডায়েরিতে বা ছোট কাগজের টুকরোয় (Chits) প্রশ্ন লিখে অথবা প্রশ্নগুলি হুবহু মুখস্থ করে তাঁরা বাইরে নিয়ে আসতেন। সরকারি পদের এই চরম অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গ দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
সিবিআই-এর চার্জশিটের বিবরণ অনুযায়ী, নিজেদের অ্যাক্সেস ব্যবহার করে প্রশ্নপত্রটি হাতিয়ে নেওয়ার পর তা বাইরে থাকা একটি সুসংগঠিত চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এর বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চক্রের সাথে যুক্ত বিভিন্ন নামী ও অনামী কোচিং সেন্টারের মালিক এবং মিডলম্যানরা (দালাল) পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত কিছু পরীক্ষার্থীকে অত্যন্ত গোপনে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের নির্দিষ্ট কিছু নিরাপদ আস্তানায় বা সেফ হাউসে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেড়ে নিয়ে পরীক্ষার আসল প্রশ্ন ও তার উত্তরগুলি মুখস্থ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই চক্রের অশুভ আঁতাত ভাঙতে সিবিআই এই মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে, যার মধ্যে এনটিএ-র ওই ৩ বিশেষজ্ঞ ছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মিডলম্যান ও শিক্ষাসংস্থার কর্তারা রয়েছেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির অধীনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের নবপ্রণীত ‘পাবলিক এগজামিনেশন অ্যাক্ট, ২০২৪’ (Public Examinations Act)-এর অধীনে কঠোর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন আইন অনুযায়ী অপরাধীদের ৫ থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার কঠোর বিধান রয়েছে। সব মিলিয়ে, এনটিএ-র এই অভ্যন্তরীণ ল্যাপস বা সুরক্ষার গলদ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার কমিটির ওপর চাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
