প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মোথাবাড়ি ব্লক-২ বিডিও (BDO) অফিসে বিচারকদের আটকে রাখা এবং পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত তথা স্থানীয় কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু চৌধুরীকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার কলকাতায় এনআইএ-র দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল সায়েমকে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জেরার পর তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় তদন্তকারীরা তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সায়েম চৌধুরীর এই গ্রেফতারির পর মোথাবাড়িকাণ্ডে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ এপ্রিল। মালদার মোথাবাড়ি ব্লক-২ বিডিও অফিসে সেদিন ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ করছিলেন বিচারকরা। অভিযোগ, সায়েম চৌধুরীর নেতৃত্বে আচমকাই একটি উত্তেজিত জনতা বিডিও অফিস চত্বরে বেআইনিভাবে জড়ো হয়। এরপরই বিচারকদের একটি ঘরের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। দফায় দফায় চলে ইটবৃষ্টি এবং গাড়ি ভাঙচুর। এই হিংসাত্মক ঘটনায় কর্তব্যরত ৯ জন পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হন। ঘটনার ভয়াবহতা এবং বিচারকদের সুরক্ষার বিষয়টি জড়িত থাকায় পরবর্তীতে এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ (NIA)।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সরকারি কাজে বাধা এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনার মূল চক্রান্তকারী ও উস্কানিদাতা ছিলেন এই কংগ্রেস প্রার্থী। ঘটনার আগের দিন এলাকায় প্ররোচনামূলক বক্তব্য রেখে জনতাকে উত্তেজিত করার অডিও ও ভিডিও ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। বিডিও অফিসের সামনে বেআইনিভাবে জমায়েত করা এবং পুলিশের ওপর হামলার নেপথ্যে সায়েমের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়েছেন আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার দিনভর কলকাতায় সায়েম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সূত্র মারফত জানা গেছে, ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) সামনে রেখে জেরা করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বয়ানের এই অসঙ্গতির জেরেই শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবারই তাঁকে বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। নির্বাচনের পর কংগ্রেস প্রার্থীর এই গ্রেফতারিতে মালদা জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
