Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নির্বাচনের মুখে কি আবারও বিধিনিষেধ? মুখ্যমন্ত্রীর ‘লকডাউন’ মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে না বাজতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল ‘লকডাউন’ প্রসঙ্গ। পাণ্ডবেশ্বরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার নাকি আবারও ‘অ্যালার্ট’ বা ‘লকডাউন’-এর মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে স্রেফ ‘ভয় দেখানোর রাজনীতি’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

এদিন পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি শুনতে পাচ্ছেন কেন্দ্র নাকি আবারও কোনো বিধিনিষেধ বা লকডাউনের কথা ভাবছে। তিনি বলেন, “আবার তো শুনছি অ্যালার্ট বা লকডাউনের মতো কিছু ভাবছে ওরা। করলে করবে, ওসব নিয়ে ভাবি না। কোভিডে যখন লড়াই করেছি, এখনও লড়তে পারব।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বা কোনো বিশেষ নির্দেশিকাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের আবেগ স্পর্শ করতে চাইছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে দেশজুড়ে লকডাউন বা এই জাতীয় কোনো বিধিনিষেধ জারির কোনো পরিকল্পনাই নেই। জনমানসে অযথা আতঙ্ক ছড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের ভিত্তিহীন কথা বলছেন। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী আসলে বুঝতে পারছেন তাঁর পায়ের তলার মাটি সরছে, তাই এখন কাল্পনিক লকডাউনের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চাইছেন।”

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে বর্তমানে এই ধরনের কোনো নির্দেশিকা বা ‘অ্যালার্ট’ জারি করার খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক স্তরে নিয়মিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত মহড়া চলতেই থাকে, যা একটি রুটিন প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী সম্ভবত এই সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ধরনের মন্তব্য জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে বলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম না নিয়ে ‘ওরা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা একটি কৌশলী অবস্থান। অন্যদিকে, সিএএ (CAA) এবং গ্যাসের দাম নিয়েও তিনি আক্রমণ চালিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে আসন্ন নির্বাচনে তিনি কেন্দ্রীয় ইস্যুগুলোকেই প্রধান ঢাল করতে চাইছেন।

বাংলার রাজনীতিতে ‘লকডাউন’ বা ‘অ্যালার্ট’ শব্দটি এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী যখন একে ‘ষড়যন্ত্র’ বলছেন, অন্যদিকে বিজেপি একে দেখছে ‘নির্বাচনী স্টান্ট’ হিসেবে। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক সাধারণ ভোটারের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Exit mobile version