প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার লড়াইটা কেবল ভোটযন্ত্রের নয়, বরং আবেগের। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া নেত্রী মঞ্জু বসুকে প্রার্থী না করে তৃণমূল যখন ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে বেছে নিলো, তখন থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। সেই আগুনেই ঘি ঢাললেন অর্জুন সিং। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “তৃণাঙ্কুর তো প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার যোগ্যই নয়, ও ময়দান ছেড়ে পালাবে।” অর্জুন সিংয়ের আক্রমণের অন্যতম মূল অস্ত্র হলো, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা জিটিএ (GTA) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ। অর্জুনের প্রশ্ন, “যাকে পুলিশ চোর বলছে, তাকেই নেত্রী টিকিট দিলেন কোন সাহসে?” এই ‘দুর্নীতি বনাম স্বচ্ছতা’র লড়াই ভোটারদের বড় অংশকে প্রভাবিত করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, নোয়াপাড়ার মানুষের কাছে মঞ্জু বসু একজন অভিভাবিকা তুল্য। সম্প্রতি জনসভা বা প্রকাশ্য মঞ্চে তাঁর সঙ্গে যে ‘দুর্ব্যবহার’ বা ‘ঘাড়ধাক্কা’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তা স্থানীয় জনমতকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেছে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে— “যিনি দলের জন্য জীবন দিলেন, শেষ বয়সে তাঁকে এভাবে অপমানিত হতে হলো?” এই সহমর্মিতা ভোট বাক্সে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬-এর এই নির্বাচনে নোয়াপাড়ার লড়াই অত্যন্ত রুদ্ধশ্বাস হতে চলেছে। বিগত নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মঞ্জু বসু জয়ী হয়েছিলেন ২৬,৭১০ ভোটের ব্যবধানে। ২০২৪ এর লোকসভায় এই বিধানসভা এলাকা থেকে তৃণমূলের লিড থাকলেও অর্জুন সিংয়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা আর বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ছিল নজরকাড়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মঞ্জু বসুর অনুগামীদের একাংশ যদি ক্ষোভে ভোট দানে বিরত থাকেন বা বিজেপির দিকে ঝোঁকেন, তবে তৃণমূলের ৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ ভোট সরাসরি পদ্ম শিবিরে যেতে পারে। যা ফলাফল ওলটপালট করার জন্য যথেষ্ট। এদিকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে অর্জুন সিং-এর নাম ঘোষণা হওয়ার পর বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, “পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, এই সরকার যাচ্ছেই।” ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের এই কেন্দ্রটি বরাবরই বাহুবল ও জনভিত্তির লড়াই দেখেছে, যেখানে অর্জুন সিং অত্যন্ত দক্ষ খেলোয়াড়।
নোয়াপাড়ার জনমত এখন দুটি মেরুতে বিভক্ত। একদিকে প্রবীণ নেত্রীর প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ, অন্যদিকে তরুণ মুখের মাধ্যমে নবীনত্বের দাবি। তবে বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী দুর্নীতির দাগ গায়ে নিয়ে তৃণাঙ্কুর কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, সেটাই এখন দেখার। অর্জুন সিংয়ের আক্রমণাত্মক মেজাজ আর মঞ্জু বসুর ‘অপমান’ কি নোয়াপাড়ায় পদ্ম ফোটানোর রসদ যোগাবে? উত্তর মিলবে ৪ ঠা মে-র ফলাফলে।
