প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের প্রশাসনিক অলিন্দে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবান্নের শীর্ষ পদে বসানো হলো অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার মনোজ আগরওয়ালকে। এতদিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পর, এবার তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবে প্রশাসনের ব্যাটন হাতে নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই জল্পনা ছিল, প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে চলেছে। বিশেষ করে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে মনোজ আগরওয়ালের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তাকে এই দৌড়ে এগিয়ে রেখেছিল। ১৯৯০ ব্যাচের এই দক্ষ আমলা এর আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে ভোট পরিচালনা— জটিল প্রশাসনিক কাজগুলো নিপুণভাবে সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বিদায়ী মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠানোর পর, নবান্নের কাজকর্মে আরও গতি আনতে আগরওয়ালের ওপর ভরসা রেখেছে বিজেপি সরকার।
সূত্রের খবর, দুর্নীতিমুক্ত এবং নিয়মমাফিক প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এই নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য।মুখ্যসচিব হিসেবে মনোজ আগরওয়ালের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ অনেক। সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখাই হবে তাঁর প্রাথমিক কাজ। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসন যে আরও কঠোর ও নিয়মানুবর্তী হতে চলেছে, সেই বার্তাই দিতে চাইল বর্তমান সরকার।
সব মিলিয়ে, মনোজ আগরওয়ালের হাত ধরে নবান্নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আমলাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা— এই পরিবর্তন রাজ্যের প্রশাসনিক মানচিত্রকে কতখানি বদলে দেয়, সেটাই দেখার।
