প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সোমবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গঙ্গার তীরের নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রশাসনিক ইনিংস শুরু করতে এদিনই প্রথমবার নবান্নে পৌঁছালেন শুভেন্দু অধিকারী। গাড়ি থেকে তিনি নামতেই চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে শঙ্খধ্বনি আর জয়ধ্বনিতে। তবে নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ অভ্যর্থনা।
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ মর্যাদায় ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করা হয়। সুসজ্জিত পুলিশ বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করার সময় তাঁর চোখেমুখে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়। নবান্নের প্রবেশপথে এই জমকালো অনুষ্ঠান দেখতে তখন ভিড় জমিয়েছিলেন অগণিত মানুষ ও কর্মীরা।
শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নবান্ন যাত্রা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ছিল টানটান উত্তেজনা। আজ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবান্নের চৌকাঠে পা রাখলেন তিনি। করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় উপস্থিত আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে স্মিতহাস্যে সৌজন্য বিনিময় করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই তিনি সরাসরি চলে যান তাঁর নির্ধারিত ঘরে, যেখান থেকে পরিচালিত হবে আগামীর পশ্চিমবঙ্গ।
নবান্নে পৌঁছেই এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই প্রবেশ কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের সূচনা। গার্ড অফ অনারের সেই তেজস্বী মুহূর্ত থেকেই স্পষ্ট যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
এখন দেখার, নবান্নের এই অলিন্দ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কলম রাজ্যের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ঠিক কী কী নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আজকের এই দৃশ্য রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে যে এক দীর্ঘস্থায়ী রেখাপাত করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
