Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নবান্ন দখলের হুঙ্কার ওয়াইসির! লক্ষ্য এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট ঘটানোর ইঙ্গিত দিলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। এতদিন পর্যন্ত মিম-এর বাংলার মাটিতে প্রভাব নিয়ে নানা জল্পনা ও বিতর্ক থাকলেও, এবার সরাসরি ‘নবান্ন দখলের’ লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে ময়দানে নামলেন হায়দ্রাবাদের এই সাংসদ। রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়ে ওয়াইসি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, তাঁর লক্ষ্য এবার কোনো আলঙ্কারিক পদ বা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নয়, বরং সরাসরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি দখল করা।

আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোটের আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। ওয়াইসি দাবি করেন, “আমরা কে কটা আসনে লড়ব, তার ফয়সালা হয়ে গিয়েছে। দু-তিনটি আসন নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াইসি এবার অত্যন্ত সুকৌশলে পা ফেলছেন। তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে, তাঁর দল ‘মিম’ নিজে খুব বেশি আসনে লড়বে না। রণকৌশল হিসেবে তারা মাত্র গোটা তিনেক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং বাকি আসনগুলিতে তাদের প্রধান জোটসঙ্গী তথা অভিজ্ঞ নেতা হুমায়ূন কবীরকে পূর্ণ সমর্থন জানাবে।

ওয়াইসির বক্তৃতার সবথেকে আলোচিত অংশটি ছিল মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী ঘোষণা। গতানুগতিক ধারায় ছোট দলগুলো সাধারণত বড় জোটের ছায়ায় থেকে ‘উপ-মুখ্যমন্ত্রী’ পদের দাবিদার হয়। কিন্তু ওয়াইসি সেই সমীকরণ বদলে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, “আমরা এবার উপ-মুখ্যমন্ত্রী নয়, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী বানাব।” ওয়াইসির এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো জেলাগুলিতে, যেখানে হুমায়ূন কবীরের নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত, সেখানে এই জোট শাসক শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং হুমায়ূন কবীরের এই জোটের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক অঙ্ক কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াইসি নিজে ভিনরাজ্যের নেতা হওয়ায় তাঁকে বারবার ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এবার স্থানীয় ভূমিপুত্র এবং দক্ষ সংগঠক হুমায়ূন কবীরকে জোটের প্রধান মুখ হিসেবে সামনে রেখে সেই বাধা কাটানোর চেষ্টা করছেন তিনি। ওয়াইসির কৌশল হলো—নিজেদের শক্তি ক্ষয় না করে নির্দিষ্ট কিছু জেতা আসনে ফোকাস করা এবং বাকি এলাকায় জোটসঙ্গীর শক্তি বাড়িয়ে বিরোধী ভোটকে সংহত করা।

ওয়াইসি ও হুমায়ূন কবীরের এই নয়া রসায়ন বাংলার ভোট ময়দানে এক নতুন মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে চলেছে। নবান্ন দখলের এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে মিম-হুমায়ূন জোট যদি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে আসে, তবে তা বাংলার সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। শাসক দলের ভোট রক্ষার চ্যালেঞ্জ আর ওয়াইসির ঝোড়ো ইনিংস—সব মিলিয়ে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন এখন এক রোমাঞ্চকর মোড় নিল।

Exit mobile version