প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত ৯ মে ব্রিগেডের জনসমুদ্রে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজই ছিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রথম বড় দিন। কিন্তু সোমবার সকালে নবান্নে যাওয়ার আগে এক চমকপ্রদ রাজনৈতিক মুভ নিলেন তিনি।চিনার পার্কের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পৌঁছে গেলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সল্টলেকের বাসভবনে। শপথের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় দুই শীর্ষ নেতার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড়। রাজনৈতিক মহলের জোরালো গুঞ্জন— আজ বিকেলেই কি তবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ও দপ্তর চূড়ান্ত হতে চলেছে?
২০২৬-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘স্বচ্ছ ও গতিশীল’ প্রশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, আজকের এই বৈঠকে মূলত মন্ত্রিসভার গঠন নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে এমন এক টিম তৈরি করাই লক্ষ্য, যারা আগামী ১০০ দিনের টাস্ক ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
হেভিওয়েট নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বিধায়কদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার কৌশল। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন। সরকার ও সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, যাতে তৃণমূল স্তরের মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ যে সৌজন্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার নজির গড়লেন, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্য সভাপতির বাসভবনে গিয়ে তাঁর পরামর্শ নেওয়া প্রমাণ করে যে, নতুন সরকার একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং সম্মিলিত মেধা ও সংগঠনের পরামর্শেই পরিচালিত হবে।
আজকের এই বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— কারা থাকছেন শুভেন্দুর নতুন টিমে? শমীক ভট্টাচার্যের ঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী হাসিমুখে বেরিয়ে আসার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে যে, বঙ্গবাসীর জন্য বড় কোনো সুখবর সম্ভবত আজই আসতে চলেছে।
