প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহারণ এগিয়ে আসতেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। কে বসবে বাংলার মসনদে? ফের কি ঘাসফুল ফুটবে নাকি এবার পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে যাবে গেরুয়া শিবিরে? এই হাজারো প্রশ্নের মধ্যেই সম্প্রতি একটি জনমত সমীক্ষা বা ‘ওপিনিয়ন পোল’ সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিখ্যাত সমীক্ষক সংস্থা ম্যাট্রিজ (Matrize)-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নবান্নের দখল নেওয়ার লড়াই এখন কার্যত ‘সুতোয় ঝুলছে’।
ম্যাট্রিজের সমীক্ষা বলছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থেকে ১৩০ থেকে ১৫০টি আসন দখল করতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলার ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। সমীক্ষার এই রেঞ্জ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শাসক দল তৃণমূল কোনোমতে সরকার গড়ার দোরগোড়ায় পৌঁছালেও, বিজেপির আসন সংখ্যা ১৪৮ পার করা এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বরং এক কঠোর বাস্তব হতে চলেছে।
বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ভোটের শতাংশ। সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূলের ঝুলিতে যেতে পারে ৪৩% ভোট, আর বিজেপি পেতে পারে ৪১% ভোট। মাত্র ২ শতাংশের এই সামান্য ব্যবধান যে কোনো মুহূর্তে ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে যদি মোদী ঝড়ের দাপট আরও বাড়ে কিংবা রাজ্যে কোনো বড়সড় ইস্যু সামনে আসে, তবে এই ২ শতাংশ ভোট বিজেপির দিকে ঘুরে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেক্ষেত্রে ১৩০-এর গণ্ডি পেরিয়ে বিজেপি অনায়াসেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলবে।
এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পেছনে একাধিক কারণ উঠে আসছে। একদিকে শাসক শিবিরের ওপর প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency), অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে জেরবার অবস্থা—এই দুই মিলিয়ে নিচুতলার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক চাপা অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজেপি এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে তাদের ঘর গোছাতে মরিয়া। বিশেষ করে জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি এবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতেও বিজেপির পালে হাওয়া লাগার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সমীক্ষায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘অন্যান্য’ বা ছোট দলগুলোর ভূমিকা। বাম-কংগ্রেস বা আইএসএফ-এর মত দলগুলো ৮ থেকে ১৬টি আসন পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শতাংশের বিচারে যা প্রায় ১৬%। যদি কোনো দলই এককভাবে ১৪৮-এর গণ্ডি পার করতে না পারে, তবে বাংলার তখত কার দখলে যাবে, তা নির্ধারণ করবে এই ছোট দলগুলিই। ত্রিশঙ্কু বিধানসভার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও এই সমীক্ষায় লুকিয়ে আছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
যদিও কোনো জনমত সমীক্ষাই শেষ কথা নয়, তবে ম্যাট্রিজের এই রিপোর্ট নবান্নের অন্দরে যে আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য দপ্তরে এখন সাজ সাজ রব। নেতা-কর্মীদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, কারণ তারা জানে সামান্য একটু খাটলেই এবার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সফল হতে পারে। এখন দেখার, শেষ হাসি কে হাসে—পিসি না পদ্ম?
