Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

উত্তরবঙ্গ নিয়ে মোদীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’: শিলিগুড়ির সভা থেকে মমতার বাধা টপকে সরাসরি বিরাট ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গতকাল শিলিগুড়ির মাটি থেকে এক ঐতিহাসিক হুঙ্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গবাসীর দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দান থেকে মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার উন্নয়নের পথে প্রধান ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান শাসকদল। কিন্তু সেই বাধা টপকেই এবার উত্তরবঙ্গকে বিশ্বমানের শিক্ষা ও চিকিৎসার ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ‘পূর্ব-পশ্চিম করিডর’-এর প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। গুজরাটের পোরবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই সুবিশাল সড়ক প্রকল্প কেন আজও পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত এসে থমকে রয়েছে, তার জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দায়ী করেছেন তিনি। মোদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের প্রধান সেবক বাংলার উন্নয়নের জন্য সবরকম চেষ্টা করছে। কিন্তু তৃণমূল কেন্দ্রের সব কাজে বাধা দিচ্ছে। পোরবন্দর থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম করিডরের কাজও এই কারণেই এখনও পূর্ণ হয়নি।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক অসহযোগিতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী কেবল অভিযোগই করেননি, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য এক বিশাল ‘গিফট বক্স’ খুলে দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে এখানে তৈরি করা হবে: উচ্চশিক্ষার প্রসারে উত্তরবঙ্গে আইআইটি-র মত বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি, যা এই অঞ্চলের মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। উত্তরবঙ্গের রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর ভিন রাজ্যে বা কলকাতায় ছুটতে হবে না। ঘরের কাছেই মিলবে উন্নতমানের ক্যানসার চিকিৎসা। কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল শিল্পের প্রসারে তৈরি হবে বিশেষ ফ্যাশন ইনস্টিটিউট। প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “বিজেপি সরকার এলে দ্বিগুণ গতিতে পশ্চিমবঙ্গের বিকাশ হবে। আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য অনেক বড় ঘোষণা করেছি এবং তা বাস্তবায়িত করবই।”

মোদীর এই ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন, আইআইটি এবং ক্যানসার হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে এই অঞ্চলের মানচিত্র বদলে যাবে। বিরোধী শিবিরের দাবি, মোদীজি কেবল ভোট নিতে আসেন না, বরং দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে আসেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে রাজ্য সরকার বারংবার বঞ্চনার অভিযোগ তোলে, সেখানে মোদী তথ্যের ভিত্তিতে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। এখন দেখার, শিলিগুড়ির এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ আসন্ন নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে পদ্ম-শিবিরকে কতটা মাইলেজ দেয়। তবে মোদীর এই মেগা ঘোষণা যে বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উত্তরবঙ্গ কি তবে এবার সত্যি সত্যিই উন্নয়নের নতুন সূর্যোদয় দেখবে? সময় ও জনতাই তার শেষ উত্তর দেবে।

Exit mobile version