প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ২০২৬-এর ভোটের বাদ্যি বাজার পর থেকেই যেন হারের আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে শাসকদল! আজ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর একদিকে যখন উন্নয়নের খতিয়ান দেওয়ার চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তখন তাঁর গলায় শোনা গেল তীব্র রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা। সাধারণ মানুষের মন না বুঝে এদিন তিনি দাবি করে বসলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নাকি ২২৬-এর বেশি আসন পাবে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, জনমোহিনী প্রকল্পের ব্যর্থতা আর একের পর এক কেলেঙ্কারিতে যখন ঘাসফুল শিবিরের নাভিশ্বাস দশা, তখন এই অবাস্তব আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে আসছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের ভাষণে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-কে ‘বয়কট’ করার ডাক। তাদের মতে, বাংলায় বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং মোদী-ঝড়ের সামনে দিশেহারা হয়েই গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ভুলে বয়কটের রাজনীতি শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে সুস্থ গণতন্ত্রে সব দলের সমান অধিকার থাকে, সেখানে দাঁড়িয়ে এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সরাসরি বিরোধী দলকে বয়কট করার ডাক কতটা সাংবিধানিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
অনেকে বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল আদৌ ২২৬ পাবে? না কি শূন্যের পথে যাত্রা করতে হবে তাদের? ২০২১-এর সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার স্বপ্ন দেখালেও, বাস্তব পরিস্থিতি যে বদলেছে, তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্দেশখালি, একের পর এক ইস্যুতে সাধারণ মানুষ এখন তৃণমূলের ওপর বীতশ্রদ্ধ। এমতাবস্থায় ‘২২৬’ সংখ্যাটিকে স্রেফ একটি আইওয়াশ বা কর্মীদের চাঙ্গা করার টোটকা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানানো হয়েছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গেছেন বাংলার মাটি তাঁর পায়ের তলা থেকে সরে গেছে। তাই এখন জ্যোতিষীর মত আসন সংখ্যা বলছেন। আর ভয় পেয়ে বিজেপিকে বয়কট করতে বলছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছেন, ২০২৬-এ বিদায় ঘণ্টা বাজবে তৃণমূলেরই। সব মিলিয়ে এখন দেখার, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার এই দাপট ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারে, নাকি মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘বয়কট’ রাজনীতি বুমেরাং হয়ে নিজের দলের ওপরই আছড়ে পড়ে। নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
