Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“আইনসভা হইহট্টগোলের জায়গা নয়, পবিত্র মন্দির!” বাংলার নতুন বিধায়কদের কড়া পাঠ দিলেন স্পিকার ওম বিড়লা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আইনসভা কোনো রাজনৈতিক লড়াই বা হইহট্টগোল করার ময়দান নয়, এটি হলো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর এক পবিত্র মন্দির। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে জনপ্রতিনিধিদের ঠিক এভাবেই তাঁদের সাংবিধানিক কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সুস্থ সংসদীয় সংস্কৃতি বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের সংবিধানকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য বাংলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের বিশেষ বার্তা দেন তিনি।

উদ্বোধনী ভাষণে লোকসভার স্পিকার স্পষ্ট জানান, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে হলে আইনসভার ভেতরে সুস্থ ও অর্থবহ আলোচনার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের আসল কাজ হলো জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা। বিধানসভার মহামূল্যবান সময় যাতে কোনো রাজনৈতিক কোন্দল বা হট্টগোলের কারণে নষ্ট না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর কথায়, বিল বা নীতি নির্ধারণের সময় শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই উচিত ইতিবাচক এবং গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া।

১৮তম বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে আসা বিপুল সংখ্যক নতুন বিধায়কদের উদ্দেশ্যে ওম বিড়লা বিশেষ পরামর্শ দেন। তিনি জানান, একজন দক্ষ বিধায়ক হতে গেলে বিধানসভার কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সংসদীয় কমিটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে শাসন বিভাগের (Executive) কাজের ওপর নজরদারি চালানো এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই একজন বিধায়কের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব।

প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে স্পিকার বলেন, বর্তমান যুগ ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগ। ভারতের সংসদ যেভাবে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করছে, ঠিক একইভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকেও ‘ন্যাশনাল ই-বিধান অ্যাপ্লিকেশন’ (NeVA)-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ পেপারলেস এবং হাইটেক করার বার্তা দেন তিনি। ডিজিটাল পরিকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে বিধায়করা যাতে আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সাধারণ মানুষের কাজ করতে পারেন, সেই আশাপ্রকাশ করেন লোকসভার স্পিকার।

Exit mobile version