প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। একটাই স্বস্তির কারণ যে, সেই বাংলাদেশে জয়লাভ করেছে বিএনপি। তারাই সরকার গঠন করছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের যে সীমান্ত রয়েছে, আর সেই সমস্ত জায়গায় বাংলাদেশের যে এলাকা, সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বাচনে জয়লাভ করেছে জামাত জোট। আর এটাই বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের কাছে যথেষ্ট চিন্তা জনক কারণ। এমনিতেই বিরোধীরা প্রতিনিয়ত দাবি করছেন যে, এই রাজ্যে সীমান্তে জমি না দেওয়ার কারণে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। আর এর জন্য রাজ্য সরকারের মনোভাবকেই বারবার করে দায়ী করেছেন বিজেপি নেতারা। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও রাজ্যে এসে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেছেন। আর একদম বাংলার সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের যে এলাকা, সেখানে যেভাবে নির্বাচনে জামাত জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, তা নিয়েই উস্মা প্রকাশ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে ওপারে যেভাবে সার্বিকভাবে জামাতরা পরাজিত হয়েছে, এপারেও সেই জামাত টু দের পরাজয় নিশ্চিত হবে বলেই জানিয়ে দিলেন তিনি।
ভারতের ক্ষেত্রে সবথেকে ভালো হতো, যদি বাংলাদেশে জয়লাভ করতো আওয়ামী লিগ। কিন্তু এবার তাদের নিষিদ্ধ করার কারণে তারা লড়তে পারেনি। স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে জামাত জোট বনাম বিএনপির মধ্যেই মূল লড়াই হয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করেছে বিএনপি। কিন্তু বাংলার সামনেই যখন নির্বাচন, যখন এই বাংলার বুকে রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারীদের অবাধে অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতারা, ঠিক তখনই এই বাংলার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশের এলাকাগুলিতে জামাত জোটের প্রার্থীদের জয় লাভ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর সেই বিষয়কে হাতিয়ার করেই রাজ্য যেভাবে জমি না দেওয়ার কারণে অনুপ্রবেশ হয়েছে এবং যেভাবে এই সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে জামাতের জয়লাভ হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারাকপুরের সভাতেই বলেছিলেন যে, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জমি দেবে না। তিনি আগেভাগেই আশঙ্কা করেছিলেন। আমিও বিধানসভায় প্রশ্ন করার পরে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জমি না দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আসলে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জমিও দেবেন না, ডিএও দেবেন না। তাই ওপারে যেমন জামাত হেরেছে, এপারেও জামাত টু হারবে। চিন্তাজনক এটাই যে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী যে বাংলাদেশের এলাকাগুলো আছে, সেখানে আওয়ামী লিগের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সেখানে জামাতিরা জিতেছে। যারা মৌলবাদের ওপর নির্ভর করে গ্রেটার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। এটা আমাদের কাছে আশঙ্কার।”
