প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস নাকি সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপিকে আটকানোর জন্য সবথেকে শক্তিশালী দল। অন্তত তাদের নেতা কর্মীরা এটাই প্রচার করে থাকেন। কিন্তু সেই তৃণমূল কংগ্রেস গোটা দেশের কাছে কতটা হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে এবং তারা কতটা দ্বিচারিতা পূর্ণ একটি রাজনৈতিক দল, তা আজ আবার একটি ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল সকলের কাছে। যেখানে বিজেপির বিরোধিতায় তৃণমূল কংগ্রেস সকলের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পথ চলার চেষ্টা করছে বলে দাবি করে, সেই তৃণমূল কংগ্রেস আজ লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অনাস্থা আনার পরিকল্পনা করলেও সেই মিটিংয়ে থাকার পরেও তারা সেখানে সই করেনি। স্বাভাবিকভাবেই তারা কেন সই করলো না, তা নিয়ে একটা প্রশ্ন অনেকের মধ্যে রয়েছে। বিজেপি বিরোধীদলগুলোর মধ্যেই আবার তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে। এখন বিরোধীরা লোকসভার এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে লাভের লাভ যে কিছু করতে পারবে না, তা খুব ভালো করেই জানে বিজেপি। কিন্তু বিরোধীদের সঙ্গে এক ছাতার তলায় থাকার পরেও তৃণমূলের যে দ্বৈত নীতি এবং যেভাবে তারা প্রতি মুহূর্তে পাল্টি খায়, এবার সেই বিষয় নিয়েই তাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
আজ সংসদে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে একটি বৈঠক করেছে। যেখানে তাদের মূল এজেন্ডা ছিল যে, লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব তারা আনবেন। কিন্তু সেই মিটিংয়ে থাকার পরেও সেখানে সই করেনি তৃণমূল বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্য একটি মহল থেকে আবার খবর পাওয়া যাচ্ছে, তৃণমূলের এখন প্রধান টার্গেট, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নিয়ে আসা। যেভাবে বাংলায় স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, তাতে তৃণমূল এই ভোটার তালিকায় ভোট হলে জিতবে না, এটা বুঝতে পেরেছে। আর সেই কারণেই যেভাবেই হোক দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর জন্য সমস্ত বিজেপি বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত করে বাংলায় টিকে থাকার মরিয়া চেষ্টা এই রাজ্যের শাসক দল শুরু করেছে। তাই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার থেকেও এখন বাংলায় অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে যিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছভাবে পরিচালিত করার চেষ্টা করছেন, সেই জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দিকেই বেশি নজর এই রাজ্যের শাসক দলের নেতা দের। আর সেই কারণেই তারা অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে পারছে না বলেই কটাক্ষ করছে গেরুয়া শিবির। আর তার মধ্যেই গোটা বিষয়টা নিয়ে বিরোধীরাও যে একত্রিত নেই এবং তারাও যে ছন্নছাড়া এবং তৃণমূলের মত রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনা করার যে কোনো বিষয় নেই, তা নিয়ে সরব হলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
এদিন এই ব্যাপারে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যখন তৃণমূল বিপদে পড়ে, তখন হরির দুয়ারে ছুটে যায়। আবার কোন দুয়ারে ছুটে যাবে, কে জানে! হয়ত এখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে অভিনয় করে দেখাবে যে, আমরা সই করিনি। আসলে তৃণমূল কংগ্রেসকে বোঝা টা খুব মুশকিল। যখন থেকে লোকসভা চলছে, তার মধ্যে বেস্ট স্পিকার ওম বিড়লা। আর তৃণমূলের কথা ছেড়ে দিন। ওরা কোন ঘটে জল খায়, কখন কি খায়, বোঝা খুব মুশকিল।”
