প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর নির্বাচন এখনও ঢের দেরি। কিন্তু মুর্শিদাবাদের নওদার মাটি মেপে নিতে গিয়ে তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরী ভাষা আর গলার সুর বলছে—তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তিটা বেশ গভীর। রবিবার নওদার সভায় উন্নয়নের খতিয়ান দেওয়ার বদলে অভিষেক যেভাবে অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীরকে ব্যক্তিগত আক্রমণে বিঁধলেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে হাসির রোল উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, জনসেবার কথা বলতে এসে কি শেষে বিরোধী নেতাদের ‘বডিগার্ড’ আর ‘বাংলো’ গুনতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন অভিষেক?
মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন, “ক্ষমতা থাকলে কেন্দ্রের দেওয়া নিরাপত্তা প্রত্যাহার করুন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকার আপনাদের নিরাপত্তা দেবে।” এই শুনেই আমজনতার মনে প্রশ্ন জাগছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেখানে প্রতিদিন খবরের শিরোনামে থাকে, সেখানে দাঁড়িয়ে অন্যকে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তার ‘গ্যারান্টি’ দেওয়াটা কি একটু বেশিই হয়ে গেল না? সন্দেশখালি থেকে আরজি কর—রাজ্য পুলিশের ‘তৎপরতা’ নিয়ে যখন সাধারণ মানুষই সন্দিহান, তখন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছেড়ে দেওয়ার নিদান দেওয়াটা অনেকটা ‘নিজের ঘর সামলাতে না পেরে পাড়ার লোককে পাহারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি’র মতোই শোনায়।
অধীর চৌধুরী কেন এখনও দিল্লির সরকারি বাংলো ছাড়েননি, তা নিয়ে অভিষেকের ঘুম উড়েছে। প্রশ্ন তুললেন বিজেপি সরকারের সঙ্গে ‘সেটিং’ নিয়ে। রাজনৈতিক মহলের রসিকতা—যাঁদের দলের তাবড় নেতারা কেন্দ্রীয় এজেন্সির ডাক পেলেই রক্ষাকবচ খুঁজতে আদালতে ছোটেন, তাঁদের মুখে অন্যের ‘সেটিং’ নিয়ে তত্ত্বকথা মানায় কি? নিজের ক্ষেত্রে যা আইনি লড়াই, অন্যের ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে গেল গোপন পিরিতি? আসলে লোকসভা ভোটে অধীর হারলেও, তাঁর দাপট যে এখনও তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে, অভিষেকের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট।
একদা তৃণমূলের অতি ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবীর এখন অভিষেকের চোখে ‘নতুন গদ্দার’। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন—যিনি নিজের দলের অন্দরেই ক্ষোভ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, তিনি বিরোধীদের গদ্দার বলছেন কোন মুখে? নওদার সভায় অভিষেক দাবি করলেন, অধীর বা হুমায়ুনকে ভোট দেওয়া মানেই পরোক্ষভাবে বিজেপিকে জেতানো। নিন্দুকেরা বলছেন, তৃণমূলের চশমায় এখন গোটা পৃথিবীটাই বোধহয় গেরুয়া হয়ে গেছে! যখনই কেউ তাঁদের ভুল ধরিয়ে দেয় বা পাল্টা প্রশ্ন করে, তখনই অবধারিতভাবে কপালে জোটে ‘বিজেপির এজেন্ট’ তকমা।
নওদার ময়দানে ভিড় উপচে পড়লেও, মানুষের মনে কিন্তু প্রশ্ন রয়েই গেল। নিরাপত্তা প্রত্যাহার বা কার কটা বাংলো আছে—এসব কি সাধারণ মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের চেয়েও বেশি জরুরি? নাকি ২০২৬-এর আগে পায়ের তলার মাটি আলগা হওয়ার ভয়েই এই আগাম ‘আক্রমণাত্মক’ চাল? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘চ্যালেঞ্জ’ শেষমেশ পাল্টা বুমেরাং হয়ে ঘাসফুল শিবিরকেই অস্বস্তিতে ফেলবে না তো? কারণ, মানুষ এখন ফাঁকা বুলি নয়, কাজ দেখতে চায়। আর বাংলার পুলিশের ওপর মানুষের ‘আস্থা’ কতটা, তা তো প্রতিদিনের সিবিআই তদন্তের দীর্ঘ তালিকা দেখলেই বোঝা যায়!
