Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পাকিস্তানের জঙ্গিযোগ! ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার হামিমের বান্ধবী অর্পিতা, কাঁপানো ছক ফাঁস করল বেঙ্গল STF!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ থেকে লস্কর তথা জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) যোগসূত্রে ধৃত সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারির পর এবার আন্তর্জাতিক স্তরের আরও এক বড় রহস্যের পর্দাফাঁস করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক রুদ্ধদ্বার অভিযান চালিয়ে এসটিএফের জালে ধরা পড়েছে হামিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তথা অন্যতম চক্রী অর্পিতা সরকার। ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতারির পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে ইতিমধ্যেই বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।এসটিএফের দাবি, ধৃত অর্পিতা কেবল হামিমের বান্ধবীই নয়, বরং সীমান্তপারের একাধিক বড়সড় নাশকতামূলক নেটওয়ার্কের সক্রিয় চালিকাশক্তি। তদন্তকারীদের চাঞ্চল্যকর দাবি—পাকিস্তানের একটি কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি এবং নিয়মিত যোগাযোগ ছিল অর্পিতার।

তদন্তে নেমে রাজ‍্য এসটিএফ জানতে পেরেছে, ধৃত হামিম মণ্ডল এবং অর্পিতা সরকারকে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল। এ দেশীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের ‘হানিট্র্যাপ’ (নকল প্রেমের ফাঁদে ফেলা) করে অত্যন্ত গোপনে ব্ল্যাকমেইল ও অপহরণ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। অর্পিতা নিজের পরিচয় গোপন রেখে এই অপরাধ চক্রের সামনের সারিতে কাজ করছিল। এই কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ফান্ডিং আসত বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমানের ফ্ল্যাট থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর তার মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করতেই অর্পিতার নাম সামনে আসে। অর্পিতার মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে পাকিস্তানের একাধিক সন্দেহভাজন ভার্চুয়াল ফোন নম্বর এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাটের হদিশ মিলেছে। এসটিএফের উচ্চপদস্থ কর্তারা মনে করছেন, জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রীদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জুড়ছিল এই যুগল।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো এবং ভিভিআইপিদের টার্গেট করার যে বিস্ফোরক তথ্য হামিমের ফোন থেকে মিলেছিল, তাতে অর্পিতার প্রত্যক্ষ মদত ছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ঝাড়খণ্ডকে সেফ জোন বা গোপন আস্তানা বানিয়ে অর্পিতা এই নেটওয়ার্ক সামলাচ্ছিল। আজই অর্পিতাকে বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে এসটিএফ। ধৃত হামিম ও অর্পিতাকে সামনাসামনি বসিয়ে মুখোমুখি জেরা (Cross-examination) করা হলে এ রাজ্যের বুকে লুকিয়ে থাকা আরও বড় স্লিপার সেলের হদিশ মিলবে বলে ধারণা প্রশাসনের।

Exit mobile version