প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় তৃণমূলের অন্দরের আগ্নেয়গিরি সজোরে ফেটে পড়ল। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৈনিক রফিকুর রহমানকে সরিয়ে পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিলো আমডাঙা কাকিনাড়া রোড। একদিকে যখন টিকিট না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়ছেন রফিকুর রহমান, অন্যদিকে তখন সেই চোখের জলেই নিজেদের জয়ের রসদ খুঁজে পাচ্ছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই এখন গেরুয়া শিবিরের কাছে তুরুপের তাস।
এদিন আমডাঙার বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোন অপরাধে আমাকে টিকিট দেওয়া হল না, দল সেটা স্পষ্ট করুক। আমি এলাকার মানুষের কাছে পরীক্ষিত, কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি।” আর তাঁর এই আবেগপ্রবণ বক্তব্য সামনে আসতেই রাস্তায় নামেন অনুগামীরা। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরাই। দলের অন্দরের এই চরম বিশৃঙ্খলা শীর্ষ নেতৃত্বকে যে যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বলা বাহুল্য, তৃণমূল এবার আমডাঙায় বাজি ধরেছে পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকির ওপর। কিন্তু স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের মূল জায়গাটি অন্য। রফিকুর রহমানের দাবি, তিনি এলাকার মানুষের ঘরের ছেলে, সেখানে হঠাৎ করে পীরজাদাকে চাপিয়ে দেওয়াটা সাধারণ ভোটাররা মেনে নিতে পারছেন না। এখন এই অসন্তোষ যদি ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়, তবে তৃণমূলের সাজানো বাগান যে ছারখার হয়ে যাবে, তা স্পষ্ট।
এদিকে তৃণমূলের এই গৃহযুদ্ধের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রফিকুর রহমানের মত একজন প্রভাবশালী নেতার টিকিট না পাওয়া এবং তাঁর অনুগামীদের এই বিদ্রোহ সরাসরি ফায়দা করে দেবে পদ্ম শিবিরকে। তৃণমূলের এই ‘ভুল চাল’ বিজেপি কর্মীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। এলাকায় গেরুয়া শিবিরের নেতাদের দাবি, তৃণমূলের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আমডাঙার মানুষ যে বিভাজনের রাজনীতি বা বহিরাগত প্রার্থী পছন্দ করছেন না, তা তৃণমূলের অন্দরের বিক্ষোভই প্রমাণ করে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে আমডাঙার রাজনৈতিক সমীকরণ এখন মুহূর্তের মধ্যে বদলে গিয়েছে। রফিকুর রহমানের হতাশা এবং কর্মীদের বিক্ষোভ শুধু তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ায়নি, বরং বিজেপিকে এক বিশাল রাজনৈতিক মাইলেজ দিয়ে দিলো। এখন আমডাঙার দুর্গে ফাটল ধরিয়ে বিজেপি কি এবার জয়ের পতাকা ওড়াবে? রফিকুরের কান্না কি শেষমেশ গেরুয়া শিবিরের হাসিতেই পর্যবসিত হবে? উত্তর দেবে সময়।
