Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কিউই ভূখণ্ডে ‘মোদীতরঙ্গ’: অকল্যান্ডের মঞ্চে ১৪০ কোটি ভারতীয়র শুভেচ্ছাবার্তা, সংস্কৃতির মেলবন্ধনে তৈরি হলো নতুন ইতিহাস!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দীর্ঘ চার দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম ভারতের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখলেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রে। অকল্যান্ডে অবতরণের পর প্রবাসী ভারতীয়দের একটি আবেগঘন ও বর্ণিল ‘কিয়া ওরা মোদি’ (Kia Ora Modi) সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নিউজিল্যান্ডের মূল শক্তি হলো তাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। একই সাথে তিনি সুদূর ভারত থেকে ১৪০ কোটি দেশবাসীর অন্তহীন ভালোবাসা এবং আন্তরিক শুভকামনা নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী ভাইবোনদের কাছে পৌঁছে দেন।

অকল্যান্ডে পৌঁছানো মাত্রই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিউজিল্যান্ডের প্রাচীন মাওরি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘পোহিরি’ (Pōwhiri) প্রথা মেনে রাজকীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই অনন্য সংবর্ধনার প্রশংসা করে মোদি বলেন, কিউই সমাজের বহুসংস্কৃতির পরিকাঠামো এবং তাদের আত্মিক আতিথেয়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভারতীয়রা যেখানেই যান, সেখানকার নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে একাত্ম হয়ে নিজেদের কর্মদক্ষতার পরিচয় দেন এবং মাতৃভূমির নাম উজ্জ্বল করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ২০-২৫ বছর আগের নিজের নিউজিল্যান্ড সফরের একটি পুরনো মাফলার প্রদর্শন করে আবেগঘন স্মৃতিও রোমন্থন করেন।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে এই সফরকে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ (Strategic Partnership) উন্নীত করার বড় ঘোষণা এসেছে। সাম্প্রতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৩৫,০০০ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্য ও কূটনীতির কঠিন হিসাব-নিকাশের বাইরে, অকল্যান্ডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং ১৪০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তার মানবিক দিকটিই আজ বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসীদের সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে।

Exit mobile version