প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ, ২০ জুলাই থেকে শুরু হলো সংসদের হাই-ভোল্টেজ বাদল অধিবেশন ২০২৬। কিন্তু অধিবেশনের প্রথম দিন কক্ষের ভেতরে পা রাখার আগেই, সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে দেশের বিরোধী শিবিরের দিকে কার্যত এক চরম ও নজিরবিহীন বার্তা ছুঁড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি কোনো হুমকি না দিলেও, সংসদ অচল করার পুরোনো অভ্যাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী আজ যে রাজনৈতিক ‘দাওয়াই’ দিয়েছেন, তা একপ্রকার নজিরবিহীন।
এদিন প্রথাগত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সবকটি রাজনৈতিক দলকে চরম সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, সংসদের ভেতরে হইহট্টগোল, ওয়াকআউট বা গায়ের জোরে অধিবেশন স্তব্ধ করে দেওয়ার দিন এবার শেষ। দেশবাসী এখন আর এই ধরণের নেতিবাচক রাজনীতি পছন্দ করছেন না। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, যেখানে অকাট্য ‘তথ্য’ থাকবে এবং সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গঠনমূলক ‘তর্ক’ বা বিতর্ক হবে— কেবল সেখানেই দেশের ভালো হবে এবং সংসদ সমৃদ্ধ হবে। মোদীর কথায়, “সংসদের ভেতরে যেন দেশের আমজনতার আসল আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয়। বাদল অধিবেশন যাতে কোনো বাধা ছাড়াই একদম ঠিকঠাকভাবে চলে, আমি সেই আশাই রাখছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আজ নাম না করে আদতে কংগ্রেসসহ ইন্ডি (I.N.D.I.A.) জোটের সাংসদদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। কারণ, অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে যে বিরোধী দলগুলি বিভিন্ন ইস্যুতে হইচই করে সংসদের বহুমূল্য সময় নষ্ট করেছে। মোদী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এবারের অধিবেশনে সরকার পক্ষ বিরোধীদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি, তবে তা হতে হবে সম্পূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সহকারে। চিৎকার-চেঁচামেচি করে সংসদ অচল করার চেষ্টা করলে, সাধারণ মানুষের চোখে বিরোধীদের ভাবমূর্তি যে আরও খারাপ হবে— সেই মনস্তাত্ত্বিক চাপটি আজ অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধীদের ওপর তৈরি করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর সংসদের ভেতরে বিরোধীরা সুর নরম করে তথ্যভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেয়, নাকি চেনা ছকেই সরকারকে কোণঠাসা করতে সংসদ কক্ষ উত্তাল করে তোলে।
