Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হাইপ্রোফাইল বৈঠক! কলকাতা নিয়ে খোদ নরেন্দ্র মোদির মুখে এ কীসের বার্তা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সংসদীয় মেগা অধিবেশনের ব্যস্ততার মাঝেই দেশের রাজধানী দিল্লিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও হাইপ্রোফাইল বৈঠক সম্পন্ন হলো। গতকাল, ৭ আগস্ট ২০২৬ (শুক্রবার) সকালে, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের সঙ্গে একটি বিশেষ ‘ব্রেকফাস্ট বৈঠকে’ (High-Profile Breakfast Meeting) মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক প্রগতির পাশাপাশি পূর্ব ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গভীর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতার গৌরবময় ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির কথা বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, একসময় কলকাতা তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ ছিল গোটা দেশের শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মেধার প্রধান ভরকেন্দ্র। কিন্তু বিগত কয়েক দশকে নানাবিধ সামাজিক ও প্রশাসনিক বিবর্তনের কারণে কলকাতার সেই প্রাচীন ঐতিহ্য ও মহিমা অনেকটাই ম্লান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতের বিকাশযাত্রায় কলকাতার অবদানের কথা উল্লেখ করে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে কলকাতার সেই ‘হারিয়ে যাওয়া’ গৌরব ও ঐতিহ্যকে যেভাবেই হোক পুনরুদ্ধার করা। কলকাতাকে আবার দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মেলে ধরতে হবে। এই হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনা আমাদের সকলের দায়িত্ব।”

কলকাতার ঐতিহ্যের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে গোটা পূর্ব ভারতের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে এই ব্রেকফাস্ট বৈঠকে বিশদ কৌশলগত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে উপস্থিত এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের স্পষ্ট জানান, দেশের সার্বিক ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রগতির জন্য পূর্ব ভারতের সামগ্রিক বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। পশ্চিমাঞ্চল বা দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলির তুলনায় পূর্ব ভারত প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ এবং অনন্য মানবসম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ঐতিহাসিক কারণে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Act East Policy)-র মূল দর্শনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পূর্ব ভারতকে দেশের মূল অর্থনৈতিক স্রোতে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান তৈরি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মাধ্যমে বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে দেশের প্রগতির মূল ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

Exit mobile version